Advertisement
E-Paper

রোগা শিপ্রাকে ফেরান এক পরিচালক, তরুণ মজুমদারের হাত ধরে হলেন মহুয়া! রহস্যমৃত্যু, আজও বাঙালির মণিকোঠায়

নাচের মাধ্যমে উপার্জন শুরু। ধীরে ধীরে বড়পর্দায় পা। শুরু থেকেই সাফল্যের স্বাদ। পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রেম করে বিয়ে, একের পর এক দারুণ কাজ। এর পরে হঠাৎই নিভে যায় সেই জ্বলন্ত প্রাণ। মহুয়া রায়চৌধুরীর জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা তাঁর কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৩
মহুয়া রায়চৌধুরী। সত্তর-আশির দশকে টালিগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। রুপোলি পর্দায় তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অপর্ণা সেন, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, এমনকি সন্ধ্যা রায়ের মতো অভিনেত্রীও। সেই সময়েই মহুয়া তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়গুণে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিচ্ছেন। তবে তাঁকে বেশিদিন পায়নি টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি। মাত্র ১২ বছরের কেরিয়ারে ইতি ঘটে তাঁর আচমকা মৃত্যুতে, যা আজও রহস্যাবৃত। ১৯৮০ সালে উত্তমের মৃত্যু বাংলা ছবির ভবিষ্যৎকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ঠিক পাঁচ বছর পরে মাত্র ২৭ বছর বয়সে মহুয়ার চলে যাওয়াও একটা শূন্যতা তৈরি করেছিল বাংলা সিনেমায়।
০১ / ১৮

মহুয়া রায়চৌধুরী। সত্তর-আশির দশকে টালিগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। রুপোলি পর্দায় তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অপর্ণা সেন, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, এমনকি সন্ধ্যা রায়ের মতো অভিনেত্রীও। সেই সময়েই মহুয়া তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়গুণে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিচ্ছেন। তবে তাঁকে বেশিদিন পায়নি টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি। মাত্র ১২ বছরের কেরিয়ারে ইতি ঘটে তাঁর আচমকা মৃত্যুতে, যা আজও রহস্যাবৃত। ১৯৮০ সালে উত্তমের মৃত্যু বাংলা ছবির ভবিষ্যৎকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ঠিক পাঁচ বছর পরে মাত্র ২৭ বছর বয়সে মহুয়ার চলে যাওয়াও একটা শূন্যতা তৈরি করেছিল বাংলা সিনেমায়।

মহুয়ার মৃত্যুর পর ৪১টা বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু মাত্র ১২ বছরের কেরিয়ারে যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মহুয়া, তা অন্য নায়িকাদের কাছে ঈর্ষণীয় বই-কি! আজও বাঙালি দর্শকের কাছে মহুয়া বলতেই ভেসে ওঠে ‘দাদার কীর্তি’র আপাতগম্ভীর সেই মুখ। পাশের বাড়ির মেয়েটির মতো সহজ, অথচ ভালবাসার গভীর অনুচ্চার ইঙ্গিত তার চোখে। তাঁকে ঘিরে এমনই এক ভাবমূর্তি তৈরি করে নিয়েছিল বাঙালি। অনেক সিনেমারসিকই মনে করেন, ওই ভাবমূর্তির আর কোনও নায়িকা পরে আর পায়নি বাঙালি দর্শক।
০২ / ১৮

মহুয়ার মৃত্যুর পর ৪১টা বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু মাত্র ১২ বছরের কেরিয়ারে যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মহুয়া, তা অন্য নায়িকাদের কাছে ঈর্ষণীয় বই-কি! আজও বাঙালি দর্শকের কাছে মহুয়া বলতেই ভেসে ওঠে ‘দাদার কীর্তি’র আপাতগম্ভীর সেই মুখ। পাশের বাড়ির মেয়েটির মতো সহজ, অথচ ভালবাসার গভীর অনুচ্চার ইঙ্গিত তার চোখে। তাঁকে ঘিরে এমনই এক ভাবমূর্তি তৈরি করে নিয়েছিল বাঙালি। অনেক সিনেমারসিকই মনে করেন, ওই ভাবমূর্তির আর কোনও নায়িকা পরে আর পায়নি বাঙালি দর্শক।

মহুয়ার আসল নাম শিপ্রা। দমদমের মেয়ে শিপ্রার জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী ছিলেন নৃত্যশিল্পী। উদয়শঙ্করের কাছে নাচ শিখেছেন। বাবার মতো ছোট থেকে নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল শিপ্রারও। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শিপ্রা মাত্র সাত বছর বয়সে মঞ্চে নাচ করে মন্ত্রমুগ্ধ করে দর্শককে। মঞ্চে তাঁর নাম হয় সোনালি রায়। সেই থেকে শুরু আয়। এর পরে বেশ কিছু দিন, কলকাতা ও তার আশপাশের মঞ্চ আলো করেছিল সোনালি।
০৩ / ১৮

মহুয়ার আসল নাম শিপ্রা। দমদমের মেয়ে শিপ্রার জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী ছিলেন নৃত্যশিল্পী। উদয়শঙ্করের কাছে নাচ শিখেছেন। বাবার মতো ছোট থেকে নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল শিপ্রারও। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শিপ্রা মাত্র সাত বছর বয়সে মঞ্চে নাচ করে মন্ত্রমুগ্ধ করে দর্শককে। মঞ্চে তাঁর নাম হয় সোনালি রায়। সেই থেকে শুরু আয়। এর পরে বেশ কিছু দিন, কলকাতা ও তার আশপাশের মঞ্চ আলো করেছিল সোনালি।

টালিগঞ্জে বাবার খানিক যোগাযোগ ছিলই। সেই সুবাদেই জানা যায়, সুখেন দাসের প্রযোজনায় পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘নয়া মিছিল’ ছবির জন্য নায়িকার খোঁজ চলছে। প্রযোজকের পছন্দ হলেও রোগা সোনালিকে চরিত্রের সঙ্গে মানানসই বলে মনে হয়নি পরিচালকের। তবে প্রায় একই সময়ে মিলেছিল নতুন সুযোগ। স্টুডিয়োচত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে খবর পাওয়া যায়, তরুণ মজুমদার তাঁর আগামী ছবির জন্য অল্পবয়সি নতুন মুখ খুঁজছেন।
০৪ / ১৮

টালিগঞ্জে বাবার খানিক যোগাযোগ ছিলই। সেই সুবাদেই জানা যায়, সুখেন দাসের প্রযোজনায় পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘নয়া মিছিল’ ছবির জন্য নায়িকার খোঁজ চলছে। প্রযোজকের পছন্দ হলেও রোগা সোনালিকে চরিত্রের সঙ্গে মানানসই বলে মনে হয়নি পরিচালকের। তবে প্রায় একই সময়ে মিলেছিল নতুন সুযোগ। স্টুডিয়োচত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে খবর পাওয়া যায়, তরুণ মজুমদার তাঁর আগামী ছবির জন্য অল্পবয়সি নতুন মুখ খুঁজছেন।

কনেবউ সেজে সন্ধ্যা রায়, তরুণ মজুমদারের সামনে এসে দাঁড়ায় সদ্য কৈশোরে পা রাখা শিপ্রা ওরফে সোনালি। বয়স তখন সবে তেরো-চোদ্দ। পরের বার, ১৯৭৩ সালে ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ সেই কিশোরীর। সিনে দুনিয়ায় আটপৌরে নাম কি চলে? পরিচালক তাই নাম রাখলেন, মহুয়া। সবেমাত্র গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রাখা মহুয়াকে নিজের হাতে করে গড়েছিলেন সন্ধ্যা রায়। অপত্যস্নেহে অভিনয়ের পাঠ শিখিয়েছিলেন। পরে যদিও নিজেই বলতেন, “ওকে কিছু শেখাতে হয়নি। আমি শুধু পড়ে দিলাম। বাকিটুকু ও নিজেই তরতর করে বলে গেল।” প্রথম ছবি সাড়া ফেলে বক্সঅফিসে। এর পরে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মহুয়াকে।
০৫ / ১৮

কনেবউ সেজে সন্ধ্যা রায়, তরুণ মজুমদারের সামনে এসে দাঁড়ায় সদ্য কৈশোরে পা রাখা শিপ্রা ওরফে সোনালি। বয়স তখন সবে তেরো-চোদ্দ। পরের বার, ১৯৭৩ সালে ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ সেই কিশোরীর। সিনে দুনিয়ায় আটপৌরে নাম কি চলে? পরিচালক তাই নাম রাখলেন, মহুয়া। সবেমাত্র গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রাখা মহুয়াকে নিজের হাতে করে গড়েছিলেন সন্ধ্যা রায়। অপত্যস্নেহে অভিনয়ের পাঠ শিখিয়েছিলেন। পরে যদিও নিজেই বলতেন, “ওকে কিছু শেখাতে হয়নি। আমি শুধু পড়ে দিলাম। বাকিটুকু ও নিজেই তরতর করে বলে গেল।” প্রথম ছবি সাড়া ফেলে বক্সঅফিসে। এর পরে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মহুয়াকে।

১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় ‘বাঘ বন্দী খেলা’। পীযূষ বসু পরিচালিত এই ছবিতে উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে অভিনয় করেন মহুয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার ছবি। এর পরে উত্তমকুমারের সঙ্গে ‘সেই চোখ’ ছবিতেও অভিনয় করেন মহুয়া। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় ঘটনার সাক্ষী উত্তম। নিজের পছন্দের ছেলেকে যখন বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, বেঁকে বসে মহুয়ার বাড়ির লোক। তখন ইন্ডাস্ট্রির যাঁরা মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, উত্তমকুমার তাঁদের অন্যতম।
০৬ / ১৮

১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় ‘বাঘ বন্দী খেলা’। পীযূষ বসু পরিচালিত এই ছবিতে উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে অভিনয় করেন মহুয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার ছবি। এর পরে উত্তমকুমারের সঙ্গে ‘সেই চোখ’ ছবিতেও অভিনয় করেন মহুয়া। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় ঘটনার সাক্ষী উত্তম। নিজের পছন্দের ছেলেকে যখন বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, বেঁকে বসে মহুয়ার বাড়ির লোক। তখন ইন্ডাস্ট্রির যাঁরা মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, উত্তমকুমার তাঁদের অন্যতম।

অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তিলক চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ মহুয়ার। তিলকও ছোট থেকে অভিনয় করতেন ছবিতে। অল্প বয়সে তাঁদের প্রেমেরও শুরু। শোনা যায়, মহুয়ার পরামর্শেই শিল্পীর অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে ব্যাঙ্কে চাকরি করা শুরু করেন তিলক। এর পরেই বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন তাঁরা। কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন দুই পরিবারের কর্তাই। ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন শিল্পীরা বলেন, নায়িকার বাবা হয়তো ভয় পেতেন ‘সোনার ডিম পা়ড়া হাঁস’ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার। শেষে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়ের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন মহুয়ার প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষাল। বিয়ের উদ্‌যাপন হয় উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে।
০৭ / ১৮

অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তিলক চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ মহুয়ার। তিলকও ছোট থেকে অভিনয় করতেন ছবিতে। অল্প বয়সে তাঁদের প্রেমেরও শুরু। শোনা যায়, মহুয়ার পরামর্শেই শিল্পীর অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে ব্যাঙ্কে চাকরি করা শুরু করেন তিলক। এর পরেই বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন তাঁরা। কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন দুই পরিবারের কর্তাই। ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন শিল্পীরা বলেন, নায়িকার বাবা হয়তো ভয় পেতেন ‘সোনার ডিম পা়ড়া হাঁস’ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার। শেষে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়ের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন মহুয়ার প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষাল। বিয়ের উদ্‌যাপন হয় উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে।

১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় তপন সিংহের ‘আদমী ঔর ঔরত’। অমোল পালেকরের সঙ্গে এই হিন্দি ছবিতে কাজ করেন মহুয়া। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছিলেন, “আজও কলকাতা এলে মনখারাপ আমার পিছু ছাড়়ে না। কলকাতা থেকে মহুয়াকে আমি এত দিনেও পুরোপুরি আলাদা করতে পারিনি।” বিহার-বাংলা সীমান্তে শুটিং হয়েছিল এই ছবির। হাতেগোনা কয়েক জন শিল্পীকে নিয়ে কাজ। ছবির শুটিংয়ের শেষ দিনে নিজের হাতে রান্না করেছিলেন মহুয়া। বাঙালি রান্না। নায়িকার মৃত্যুসংবাদ পরিচালকের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন অভিনেতা।
০৮ / ১৮

১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় তপন সিংহের ‘আদমী ঔর ঔরত’। অমোল পালেকরের সঙ্গে এই হিন্দি ছবিতে কাজ করেন মহুয়া। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছিলেন, “আজও কলকাতা এলে মনখারাপ আমার পিছু ছাড়়ে না। কলকাতা থেকে মহুয়াকে আমি এত দিনেও পুরোপুরি আলাদা করতে পারিনি।” বিহার-বাংলা সীমান্তে শুটিং হয়েছিল এই ছবির। হাতেগোনা কয়েক জন শিল্পীকে নিয়ে কাজ। ছবির শুটিংয়ের শেষ দিনে নিজের হাতে রান্না করেছিলেন মহুয়া। বাঙালি রান্না। নায়িকার মৃত্যুসংবাদ পরিচালকের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন অভিনেতা।

প্রথম জীবনে রোগা বলে বাদ পড়েছিলেন ‘নয়া মিছিল’ থেকে। মনে মনে হয়তো খানিক অপমানিত বোধ করেছিলেন। তাই পৃথুলা বলে যখন তপন সিংহ ‘আদমী ঔর ঔরত’ থেকে তাঁকে বাদ দেবেন বলে ঠিক করলেন, তখন মাত্র তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন নায়িকা। যথাসময়ে পরিচালক যখন তাঁকে দেখেন, চিনতেই পারেননি। এই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন যখন, তখন তাঁর নামের পাশে ‘মরণোত্তর’ শব্দ বসেছে। ততদিনে মহুয়া বিদায় নিয়েছেন চিরকালের মতো।
০৯ / ১৮

প্রথম জীবনে রোগা বলে বাদ পড়েছিলেন ‘নয়া মিছিল’ থেকে। মনে মনে হয়তো খানিক অপমানিত বোধ করেছিলেন। তাই পৃথুলা বলে যখন তপন সিংহ ‘আদমী ঔর ঔরত’ থেকে তাঁকে বাদ দেবেন বলে ঠিক করলেন, তখন মাত্র তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন নায়িকা। যথাসময়ে পরিচালক যখন তাঁকে দেখেন, চিনতেই পারেননি। এই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন যখন, তখন তাঁর নামের পাশে ‘মরণোত্তর’ শব্দ বসেছে। ততদিনে মহুয়া বিদায় নিয়েছেন চিরকালের মতো।

টলিউডের প্রথম সারির তারকা অভিনেত্রী ছিলেন মহুয়া। কিছু কিছু ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর দাগ কাটে। তার অন্যতম এই ‘আদমী ঔর ঔরত’। এই ছবিতে মুসলমান গর্ভবতী রমণীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেই চরিত্রের প্রশংসা করেছিলেন সমালোচকেরা। এই ছবির জন্য সর্বভারতীয় স্বীকৃতিও পান মহুয়া। ‘দাদার কীর্তি’ ছবির সেই গম্ভীর নায়িকা সরস্বতীকেও সহজে ভুলতে পারেননি দর্শক। সেই নায়িকার ঠোঁটে ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে’ গানে দর্শকের চোখ ভেজে, আজও।
১০ / ১৮

টলিউডের প্রথম সারির তারকা অভিনেত্রী ছিলেন মহুয়া। কিছু কিছু ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর দাগ কাটে। তার অন্যতম এই ‘আদমী ঔর ঔরত’। এই ছবিতে মুসলমান গর্ভবতী রমণীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেই চরিত্রের প্রশংসা করেছিলেন সমালোচকেরা। এই ছবির জন্য সর্বভারতীয় স্বীকৃতিও পান মহুয়া। ‘দাদার কীর্তি’ ছবির সেই গম্ভীর নায়িকা সরস্বতীকেও সহজে ভুলতে পারেননি দর্শক। সেই নায়িকার ঠোঁটে ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে’ গানে দর্শকের চোখ ভেজে, আজও।

‘দাদার কীর্তি’ ছবির হাত ধরে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ তাপস পালের। স্বাভাবিক ভাবেই, প্রথম ফ্লোরে ঢুকেই তাঁর ঘাম ঝরার মতো অবস্থা। কাঁচুমাচু মুখে জড়োসড়ো অভিনেতাকে দেখে হঠাৎ এক নারীকণ্ঠ বলে ওঠে, ‘‘প্রথম প্রথম সকলেরই একটু অমন হয়। পরে সব ঠিক হয়ে যায়।’’ সদ্য অভিনয়ে পা রাখা ছেলেটি অবাক হয়ে ফিরে দেখে, বাংলা ছবির ব্যস্ততম নায়িকার মুখ। এই ছবিতে মহুয়ার বোনের চরিত্রে ছিলেন দেবশ্রী রায়। গোপন কথা, বকাবকি, আদর, মান-অভিমান সবটা জড়িয়ে অজান্তেই কখন যেন সত্যিই দেবশ্রীর ‘দিদি’ হয়ে যান মহুয়া।
১১ / ১৮

‘দাদার কীর্তি’ ছবির হাত ধরে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ তাপস পালের। স্বাভাবিক ভাবেই, প্রথম ফ্লোরে ঢুকেই তাঁর ঘাম ঝরার মতো অবস্থা। কাঁচুমাচু মুখে জড়োসড়ো অভিনেতাকে দেখে হঠাৎ এক নারীকণ্ঠ বলে ওঠে, ‘‘প্রথম প্রথম সকলেরই একটু অমন হয়। পরে সব ঠিক হয়ে যায়।’’ সদ্য অভিনয়ে পা রাখা ছেলেটি অবাক হয়ে ফিরে দেখে, বাংলা ছবির ব্যস্ততম নায়িকার মুখ। এই ছবিতে মহুয়ার বোনের চরিত্রে ছিলেন দেবশ্রী রায়। গোপন কথা, বকাবকি, আদর, মান-অভিমান সবটা জড়িয়ে অজান্তেই কখন যেন সত্যিই দেবশ্রীর ‘দিদি’ হয়ে যান মহুয়া।

রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন মহুয়া। সুজিত গুহের ছবি ‘অভিমান’-এ তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। রঞ্জিত খোঁড়া, অসহায়। শারীরিক ও মানসিক তিক্ততা থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। অভিনেতা জানান, একটা দৃশ্যে হাতের ক্রাচ দিয়ে মারতে মারতে মহুয়াকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাঁর সংলাপ বলার কথা। “শেষ হওয়ার পর সকলে বুঝতে পারল, ভয়ঙ্কর লেগেছে ওর। আমি উত্তেজিত হয়ে বেশ জোরেই আঘাত করে ফেলেছি। শক্ত শট। তাই যাতে রিটেক না হয়, সেই জন্য টুঁ শব্দটি করেনি। কী ভীষণ একাগ্রতা!”
১২ / ১৮

রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন মহুয়া। সুজিত গুহের ছবি ‘অভিমান’-এ তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। রঞ্জিত খোঁড়া, অসহায়। শারীরিক ও মানসিক তিক্ততা থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। অভিনেতা জানান, একটা দৃশ্যে হাতের ক্রাচ দিয়ে মারতে মারতে মহুয়াকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাঁর সংলাপ বলার কথা। “শেষ হওয়ার পর সকলে বুঝতে পারল, ভয়ঙ্কর লেগেছে ওর। আমি উত্তেজিত হয়ে বেশ জোরেই আঘাত করে ফেলেছি। শক্ত শট। তাই যাতে রিটেক না হয়, সেই জন্য টুঁ শব্দটি করেনি। কী ভীষণ একাগ্রতা!”

শোনা যায়, সেই সময়ে ব্যক্তিগত জীবনও তোলপাড় মহুয়ার। এই দৃশ্যের পরে তাঁর কাছে গিয়ে র়ঞ্জিত দুঃখপ্রকাশ করতেই নাকি তিনি বলে ফেলেন, “এর থেকেও বেশি জোরে মার খাওয়ার অভ্যাস আছে রঞ্জিতদা।” যাঁকে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন, সেই তিলকের সঙ্গে তখন সম্পর্ক অবনতির পথে। অশান্তি এক এক দিন এমন আকার নিত যে, স্বামীর মারের দাগ লুকিয়ে নাকি শট দিতে হত মহুয়াকে। সেই কথাই মুখ ফস্কে বলে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী।
১৩ / ১৮

শোনা যায়, সেই সময়ে ব্যক্তিগত জীবনও তোলপাড় মহুয়ার। এই দৃশ্যের পরে তাঁর কাছে গিয়ে র়ঞ্জিত দুঃখপ্রকাশ করতেই নাকি তিনি বলে ফেলেন, “এর থেকেও বেশি জোরে মার খাওয়ার অভ্যাস আছে রঞ্জিতদা।” যাঁকে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন, সেই তিলকের সঙ্গে তখন সম্পর্ক অবনতির পথে। অশান্তি এক এক দিন এমন আকার নিত যে, স্বামীর মারের দাগ লুকিয়ে নাকি শট দিতে হত মহুয়াকে। সেই কথাই মুখ ফস্কে বলে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী।

পর পর বেশ কয়েকটা ছবিতে কাজ করেন রঞ্জিত আর মহুয়া। ‘লাল গোলাপ’, ‘অভিমান’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘শত্রু’, ‘শঠে শাঠ্যং’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে পর্দায় তৈরি হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ছবিতে একাধিক শিল্পী থাকলেও নজর কেড়েছিলেন মহুয়া। বলা হয়, কপালকুণ্ডলার মতো দুঃখ আর দুর্গতিতে ভরা মহুয়ার ব্যক্তিগত জীবনও। এত দিন কেটে গিয়েছে, তবু অরণ্যবালা কপালকুণ্ডলার সরল চাউনি, তাঁর অভিব্যক্তি— আজও উজ্জ্বল দর্শকমনে।
১৪ / ১৮

পর পর বেশ কয়েকটা ছবিতে কাজ করেন রঞ্জিত আর মহুয়া। ‘লাল গোলাপ’, ‘অভিমান’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘শত্রু’, ‘শঠে শাঠ্যং’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে পর্দায় তৈরি হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ছবিতে একাধিক শিল্পী থাকলেও নজর কেড়েছিলেন মহুয়া। বলা হয়, কপালকুণ্ডলার মতো দুঃখ আর দুর্গতিতে ভরা মহুয়ার ব্যক্তিগত জীবনও। এত দিন কেটে গিয়েছে, তবু অরণ্যবালা কপালকুণ্ডলার সরল চাউনি, তাঁর অভিব্যক্তি— আজও উজ্জ্বল দর্শকমনে।

সেই সময়ে কলকাতার প্রায় সব তাবড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন মহুয়া। তরুণ মজুমদার বা তপন সিংহের পাশাপাশি অগ্রদূতের ‘সূর্যসাক্ষী’, অগ্রগামীর ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘অজস্র ধন্যবাদ’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘কেনারাম বেচারাম’, পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের ‘প্রতিশ্রুতি’, ‘কপালকুণ্ডলা’, সলিল দত্তের ‘বাবুমশাই’, ‘রাজেশ্বরী’, ‘সেই চোখ’, পীযূষ বসুর ‘বাঘবন্দী খেলা’— এমন অজস্র ছবিতে কাজ করেছেন তিনি।
১৫ / ১৮

সেই সময়ে কলকাতার প্রায় সব তাবড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন মহুয়া। তরুণ মজুমদার বা তপন সিংহের পাশাপাশি অগ্রদূতের ‘সূর্যসাক্ষী’, অগ্রগামীর ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘অজস্র ধন্যবাদ’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘কেনারাম বেচারাম’, পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের ‘প্রতিশ্রুতি’, ‘কপালকুণ্ডলা’, সলিল দত্তের ‘বাবুমশাই’, ‘রাজেশ্বরী’, ‘সেই চোখ’, পীযূষ বসুর ‘বাঘবন্দী খেলা’— এমন অজস্র ছবিতে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৮৫ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অভিনেত্রীর। প্রায় দিনদশেক ধরে হাসপাতালের বিছানায় যমে-মানুষে টানাটানি। অবশেষে থামে লড়াই। শোনা যায়, মৃত্যুশয্যায় প্রিয় বান্ধবী রত্নার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, গোলাকে যেন দেখে রাখা হয়। গোলা ওরফে তমাল মহুয়া ও তিলকের ছেলে। তাঁর মৃত্যু আদৌ অঘটন, না কি নেপথ্যে অন্য কারণ ছিল, তা আজও রহস্য। তবে যখন তিনি মারা যান, তখনও তাঁর হাতে ২২টি ছবির কাজ ছিল বলে খবর।
১৬ / ১৮

১৯৮৫ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অভিনেত্রীর। প্রায় দিনদশেক ধরে হাসপাতালের বিছানায় যমে-মানুষে টানাটানি। অবশেষে থামে লড়াই। শোনা যায়, মৃত্যুশয্যায় প্রিয় বান্ধবী রত্নার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, গোলাকে যেন দেখে রাখা হয়। গোলা ওরফে তমাল মহুয়া ও তিলকের ছেলে। তাঁর মৃত্যু আদৌ অঘটন, না কি নেপথ্যে অন্য কারণ ছিল, তা আজও রহস্য। তবে যখন তিনি মারা যান, তখনও তাঁর হাতে ২২টি ছবির কাজ ছিল বলে খবর।

সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ওই ২২টির মধ্যে মাত্র চারটি ছবির কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন। সাতটি অর্ধসমাপ্ত। বাকি ১১টা ছবি সই করেছিলেন শুধু। তাঁর মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়েছিল টলিপাড়া। তাঁর মৃত্যুর পরে যে কটি ছবি মুক্তি পায়, সবক’টিই দুর্দান্ত সফল। বলা হয়, সেগুলির মধ্যে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ও ‘অভিমান’ সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছিল। এই দুই ছবিতেই মহুয়ার ঠোঁটে সংলাপে কণ্ঠ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে মহুয়ার খুব বন্ধুত্ব ছিল। একটি ছবিতে কাজ করেছিলাম। মহুয়া আমাকে খুব পছন্দ করত। বলত, তোর চোখ কথা বলে, তুই ভাল অভিনেত্রী হবি। বিধাতার কি পরিকল্পনা, আজও ওর শেষ ছবিগুলি চললে পর্দায় মহুয়াকে দেখা যায়, আর ওর মুখে আমার কণ্ঠস্বরে সংলাপ শোনা যায়।”
১৭ / ১৮

সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ওই ২২টির মধ্যে মাত্র চারটি ছবির কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন। সাতটি অর্ধসমাপ্ত। বাকি ১১টা ছবি সই করেছিলেন শুধু। তাঁর মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়েছিল টলিপাড়া। তাঁর মৃত্যুর পরে যে কটি ছবি মুক্তি পায়, সবক’টিই দুর্দান্ত সফল। বলা হয়, সেগুলির মধ্যে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ও ‘অভিমান’ সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছিল। এই দুই ছবিতেই মহুয়ার ঠোঁটে সংলাপে কণ্ঠ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে মহুয়ার খুব বন্ধুত্ব ছিল। একটি ছবিতে কাজ করেছিলাম। মহুয়া আমাকে খুব পছন্দ করত। বলত, তোর চোখ কথা বলে, তুই ভাল অভিনেত্রী হবি। বিধাতার কি পরিকল্পনা, আজও ওর শেষ ছবিগুলি চললে পর্দায় মহুয়াকে দেখা যায়, আর ওর মুখে আমার কণ্ঠস্বরে সংলাপ শোনা যায়।”

মহুয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি। বলা হয়েছিল, ছেলের জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে নাকি স্টোভ থেকে আগুন ধরে যায়। তাতেই অগ্নিদগ্ধ হন অভিনেত্রী। অথচ তিনি নাকি সে দিন সকাল থেকে মদ্যপান করছিলেন। তা হলে স্টোভের কাছে কেন যেতে দেওয়া হল তাঁকে? তিনি নাকি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন একাধিক বার। মাত্র ২৭ বছরেই যে প্রতিভার আগুন নিভে যায়, তাঁকে নিয়ে রহস্যের কিনারা আজও হয়নি। তবে এখনও বাঙালি সিনেপ্রেমীর কাছে মহুয়ার আবেদন টাটকা। সেই রেশ থেকেই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবন, তাঁর মৃত্যুরহস্য বড়পর্দায় আনতে চলেছেন প্রযোজক রানা সরকার। রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় তৈরি হচ্ছে ‘গুন গুন করে মহুয়া’।
১৮ / ১৮

মহুয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি। বলা হয়েছিল, ছেলের জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে নাকি স্টোভ থেকে আগুন ধরে যায়। তাতেই অগ্নিদগ্ধ হন অভিনেত্রী। অথচ তিনি নাকি সে দিন সকাল থেকে মদ্যপান করছিলেন। তা হলে স্টোভের কাছে কেন যেতে দেওয়া হল তাঁকে? তিনি নাকি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন একাধিক বার। মাত্র ২৭ বছরেই যে প্রতিভার আগুন নিভে যায়, তাঁকে নিয়ে রহস্যের কিনারা আজও হয়নি। তবে এখনও বাঙালি সিনেপ্রেমীর কাছে মহুয়ার আবেদন টাটকা। সেই রেশ থেকেই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবন, তাঁর মৃত্যুরহস্য বড়পর্দায় আনতে চলেছেন প্রযোজক রানা সরকার। রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় তৈরি হচ্ছে ‘গুন গুন করে মহুয়া’।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy