গুজরাতের সুরতের পান্ডেসারা এলাকা থেকে আট জন ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করল পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি)। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এই তল্লাশি চালায় পুলিশ।
ধৃতদের কারও কাছেই চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয় বৈধ মেডিক্যাল ডিগ্রি বা যোগ্যতা ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে। অথচ তার পরেও কী ভাবে সকলের নজর এড়িয়ে বছরের পর বছর ধরে ক্লিনিক খুলে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পান্ডেসারা এলাকা থেকে বহু মানুষ অভিযোগ তোলেন যে, কোনও রকম বৈধ ডিগ্রি ছাড়াই চিকিৎসা করছেন কয়েক জন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ সত্যি কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতর তাদেরই লোককে রোগী হিসেবে পাঠায় ওই চিকিৎসকদের ক্লিনিকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে সব ক্লিনিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর ভুয়ো চিকিৎসক ধরতে তিনটি দল গঠন করা হয়। তার পরই অভিযান চালিয়ে আটটি ক্লিনিক থেকে আট জন ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ভাঁড়িয়ে নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন অভিযুক্তেরা। তার পর ধীরে ধীরে ক্লিনিকও খুলে বসেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার কম্পাউডারের কাজ করতেন, কেউ আবার অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ধৃতদের মধ্যে কয়েক জন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কয়েক জন আবার বিজ্ঞানে স্নাতক। কম্পাউন্ডার এবং অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পান্ডেসারা এলাকায় ক্লিনিক খুলে চিকিৎসা করছিলেন ওই আট জন। ধৃতদের ক্লিনিক থেকে ওষুধ, ইঞ্জেকশন, সিরাপ-সহ প্রায় ৯৮ হাজার টাকার চিকিৎসা-সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।