এক বছর ধরে মাটির ভাঁড়ে খুচরো পয়সা আর নোট জমাচ্ছিল আট বছরের অল্ফাজ শেখ। গত বৃহস্পতিবার সেই ভাঁড় সে নির্দ্বিধায় তুলে দিয়ে এল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে। উত্তর প্রদেশের বহরাইচে।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অল্ফাজের অনুরোধ, তাঁর জমানো অর্থ যেন নেপালের বন্যায় বিপর্যস্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরকারি আধিকারিকেরা খুদের ইচ্ছেকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে কথা দিয়েছেন, এই অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
একই দিনে এক খারাপ দৃশ্যেরও সাক্ষী রইল বহরাইচ। এই জেলার একটি সীমান্ত নেপালের সঙ্গে জোড়া। গণ্ডক নদীর স্রোত বয়ে চলে আসা ১৪টি মৃতদেহ সেখানে ভেসে উঠল বৃহস্পতিবার। ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ করে মৃতদেহগুলি নেপাল প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, এমনটাই জানালেন জেলা আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন:
তবে এমন ঘটনা এখানে নতুন নয়। বিপর্যয়ের পর রবিবার পর্যন্ত ১২ দিন হয়ে গেল। নেপালের ঘটনায় দেহ উদ্ধারের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১৩৩৮। নিখোঁজ এখনও পাঁচ হাজারেরও উপর। একের পর এক উদ্ধারকারী দল দিন-রাত কাদামাটির স্তূপ সরিয়ে মৃত ও আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মাঝে নেপাল, ভারত ও তিব্বতের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর জলে ভেসে উঠছে পচাগলা মৃতদেহ।
উত্তরপ্রদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভেসে ওঠা ১৪টি মৃতদেহ পাঠানোর সময় অলফাজ়ের সেই মাটির ভাঁড়টিও নেপাল সরকারের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন জেলা আধিকারিকেরা। কিন্তু তাঁরা ভাঁড়টি ওই ভাবে নিতে রাজি হননি। তাঁদের বক্তব্য, ভাঁড়টি ভেঙে যা অর্থ পাওয়া যাবে, তা সরাসরি কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।
বহরাইচের আধিকারিকেরা অবশ্য এখনও হাল ছাড়েননি। এক উচ্চ আধিকারিক বলেন, ‘‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহেন্দ্র সিংহ তাবর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মাটির ভাঁড়টি নেপাল দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়া হবে।’’ তাঁর কথায়, দেশের এক খুদে নাগরিকের অনুদান, তা সে যত ছোটই হোক, যেন অক্ষত অবস্থায় বন্যা-বিপর্যস্ত দেশের হাতে তুলে দেওয়া যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে।