রাতের অন্ধকারে নিজের স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। সঙ্গে থাকত একটা থলি। তার মধ্যে থাকত গাড়ি মেরামতির নানা ধরনের সরঞ্জাম। সুযোগ বুঝে নির্জন এলাকায় পার্ক করা গাড়ির অতিরিক্ত চাকা এবং রিম খুলে নিতেন। তার পরে সেই চাকা নিয়ে রাখতেন নিজের বাবার দোকানেই। সেখানেই বিক্রি হত চাকাগুলি! হায়দরাবাদে গাড়ির চাকা চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে এমবিবিএস পড়ুয়া।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম সোবন আলি খান। ২৩ বছর বয়সি ওই যুবক হায়দরাবাদেই এমবিবিএস-এ পড়ছেন। গত ২০ অক্টোবর পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, তাঁর আবাসনের বাইরে পার্ক করা মহিন্দ্রা থার গাড়ি। সকালে উঠে তিনি দেখেন ওই বাড়ির পিছনে আটকানো অতিরিক্ত চাকাটি নেই! সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাতে ওই এলাকায় এক যুবক স্কুটারে চেপে আসেন। ওই থার গাড়ির সামনে নিজের স্কুটার পার্ক করেন। খুব সন্তর্পণে এ দিক ও দিক দেখে নেন। তার পরেই সঙ্গে থাকা থলি থেকে কিছু সরঞ্জাম বার করে ওই থার গাড়ির অতিরিক্ত চাকা খোলার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর ওই এলাকায় আরও একটি স্কুটার চলে আসে। তখন তড়িঘড়ি লুকিয়ে পড়েন ওই যুবক। অপর স্কুটারটি চলে যাওয়ার পর আবার বেরিয়ে এসে অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। চাকা খোলার পর সেটা স্কুটারের পিছনে বেঁধে এলাকা ছাড়েন ওই যুবক।
ওই ফুটেজ দেখে যুবককে শনাক্ত করে পুলিশ। তার পরেই সোবনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বাড়ি এবং তাঁর বাবার দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি চাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে ১২টি চাকাই মহিন্দ্রা থারের গাড়িরই।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, ‘‘চাকা চুরির আগে ওই যুবক কোনও এক পাংচার সারানোর দোকানে যেতেন। সেখানে গিয়ে বলতেন, পাংচার সারানো জন্য তাঁর কিছু সরঞ্জাম চাই। কখনও ২০০ টাকা আবার কখনও ৩০০ টাকা জমা রেখে সেই সব সরঞ্জাম নিয়ে আসতেন। তার পরে রাতের অন্ধকারে পার্ক করা গাড়ি থেকে চাকা চুরি করতেন। কাজ শেষ হলে আবার ওই দোকানে গিয়ে সরঞ্জামগুলি ফেরত দিয়ে জমা দেওয়া টাকা নিয়ে আসতেন।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বাবার একটি চাকা সারানোর দোকানে কাজ করতেন। সেই দোকানে প্রায়ই চাকার প্রয়োজন পড়ত। ধৃত চুরি করা চাকা এনে ওই দোকানে বিক্রি করে দিতেন! পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কবে থেকে এই চুরি শুরু করেছেন বা এই চুরির ঘটনায় তাঁর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে জেরা করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও কথা বলছেন তাঁরা।