E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এ বার ‘ই-২০ জনতা পার্টি’

রবিবার ভোর থেকে আবির্ভাবের পরে অনলাইনে ই-২০ জনতা পার্টির ‘ফলোয়ার’-এর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পার্টির নেতৃত্বে কারা, তা স্পষ্ট না হলেও পার্টির তরফে স্বেচ্ছাসেবক, মুখপাত্র নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৬
নিতিন গডকড়ী।

নিতিন গডকড়ী। — ফাইল চিত্র।

ককরোচ জনতা পার্টির পরে এ বার ই-২০ জনতা পার্টি! ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরে কি এ বার নিতিন গডকড়ী?

‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিতে হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এ বার পেট্রলে ইথানল মেশানোর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে আবির্ভূত হল ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ নামে এক নয়া সংগঠন। দাবি তাদের খুবই স্পষ্ট। ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রলের বদলে দেশবাসীকে ১০০ শতাংশ পেট্রল থাকা জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। এই দাবি নিয়ে আন্দোলন করার ক্ষেত্রে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ বেছে নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র মিমভিত্তিক, ব্যঙ্গাত্মক কৌশলই। ‘ই-২০ জনতা পার্টি’-র তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘গ্রাহকদের সব কিছু জানার অধিকার রয়েছে। জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।’’ রবিবার ভোর থেকে আবির্ভাবের পরে অনলাইনে ই-২০ জনতা পার্টির ‘ফলোয়ার’-এর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পার্টির নেতৃত্বে কারা, তা স্পষ্ট না হলেও পার্টির তরফে স্বেচ্ছাসেবক, মুখপাত্র নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কি নিতিন গডকড়ী বিপদে পড়তে চলেছেন? কারণ মোদী সরকারের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রীই ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সরব। যদিও এই বিষয়টি পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের অধীন। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁর ছেলের ইথানল তৈরির ব্যবসা বলেই নিতিনের এত উৎসাহ। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দু’সপ্তাহ আগে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ির ‘মাইলেজ’ ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমে যায় বলে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্বীকার করে নিয়েছিল। পাশাপাশি মন্ত্রক দাবি করে, পেট্রলে ইথানল মেশানো হচ্ছে বলেই জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব নয়। ই-২০ ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়িতে ইঞ্জিন, যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে এই অভিযোগ উড়িয়ে মন্ত্রক দাবি করেছিল, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে।‘ই-২০ জনতা পার্টি’-র আবির্ভাবের পাশাপাশি একই বিষয়ে একটি নাগরিক সংগঠন আগামী ৩১ জুলাই দিল্লিতে ‘গাড়ি মিছিল, গান্ধী মিছিল’-এর ডাক দিয়েছে। দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যক পরিবহণকারীদের সংগঠনও ৪ অগস্ট ‘সংসদ চলো’র ডাক দিয়েছে।

ওই সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় সম্রাট বলেন, ‘‘পর্যটক পরিবহণকারী ও গাড়ির মালিকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জানিয়েছেন গাড়ির তেলের খরচ বেড়েছে। বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। ইঞ্জিন ঠিক মতো কাজ করছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালের আগে তৈরি অনেক গাড়িই ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহারের উপযোগী নয়।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘দেশবাসী পেট্রলের দাম দিচ্ছেন। সরকার জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে। তাহলে ইথানল মেশানো পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে কেন?’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nitin Gadkari Fuel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy