মহিলা অভিযোগ করছেন তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু শুনতে নারাজ পঞ্চায়েত অভিযোগকারিণীকে কান ধরে থুতু চাটতে বাধ্য করেছে। এমনই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল বিহারের বেগুসরাই থানা এলাকায়। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা কান ধরে দাঁড়িয়ে। তার পর রাস্তায় ঝুঁকে তিনি থুতু চাটছেন। ওই ভিডিয়ো দেখে নড়েচড়ে বসে পুলিশও। গত ১ অগস্ট এ নিয়ে একটি অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি গত জুন মাসের।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২ জুন রাতে বাড়িতে ঢুকে এক মহিলাকে তাঁর এক প্রতিবেশী ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘নির্যাতিতা’ দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে ধরে ফেলেন গ্রামেরই কয়েক জন। কিন্তু পুলিশকে খবর না দিয়ে পঞ্চায়েতের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। সালিশিতে দু’জনের বিচার শুরু হয়। ধর্ষিতা এবং ধর্ষক— দু’জনকেই দায়ী করে সকলের সামনে অপমান করা হয়। কিন্তু তিনি কী দোষ করেছেন? ওই প্রশ্ন করেও শাস্তি এড়াতে পারেননি বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী। ভিডিয়োও দেখা গিয়েছে, গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। তিনি কান ধরে দাঁড়িয়ে। তার পর তাঁকে ঝুঁকে মাটি থেকে থুতু চাটতে দেখা যায়।
পরের ভিডিয়ো ফুটেজে এক ব্যক্তিকেও দেখা যায়। তিনি-ই ধর্ষণে অভিযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁকেও কান ধরে ক্ষমা চাইতে এবং থুতু চাটতে বাধ্য করা হয়। গত ৩০ জুলাই ওই ভিডিয়োটি প্রথম সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার পরের দিন পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তার তদন্ত চলছে। কিন্তু এখনও কেউ আটক বা গ্রেফতার হননি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেইনি। ওই মহিলা এবং পুরুষের মধ্যে ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল। মহিলার স্বামী তামিলনাড়ুতে থাকেন। তিনি সেই ‘সুযোগে’ পরকীয়া করতেন গ্রামেরই ওই যুবকের সঙ্গে। গত জুন মাসে তাঁরা আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা-হলেও পুলিশে না গিয়ে কেন পঞ্চায়েত থেকে সালিশিসভা বসিয়ে এ ভাবে ‘বিচার’ হল? প্রশ্নের জবাব মেলেনি। পুলিশ বলছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো দেখে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেছে তারা। তদন্ত চলছে। গত ১ অগস্ট ওই মহিলাও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে খবর।