রাম মন্দিরের নতুন সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী আধিকারিক বা সিইও নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে বলে জানালেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার জনের মধ্যে থেকে অনেক ঝাড়াই-বাছাইয়ের পরে ১৬ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের নাম চূড়ান্ত করেছে অনুসন্ধান কমিটি এবং তা ট্রাস্টের কাছে সুপারিশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্রাস্টের তরফে এ-ও জানানো হয়, তারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যথাসময়ে নতুন সিইও-র নাম ঘোষণা করা হবে।
ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, শুরুতে মোট ৫৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩৮৭৭ জন প্রার্থী তাঁদের সবিস্তার সিভি জমা দিয়েছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি কে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে-কে নিয়ে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি এর পরে ওই আবেদনকারীদের সিভি পর্যবেক্ষণ করেন। একাধিক ধাপে চলে বাছাই কার্যক্রম। অবশেষে ১৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। ১১ ও ১২ অগস্ট অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দির চত্বরেই তাঁদের সাক্ষাৎকার নেয় অনুসন্ধান কমিটি।
কমিটি জানিয়েছে, চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, নেতৃত্বের সম্ভাবনা, ব্যক্তিত্ব, দূরদর্শী চিন্তাধারা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তিন বছরের চুক্তিতে সিইও নিয়োগ করা হবে এবং সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পরে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। এই পদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পাশাপাশি, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে অনুদান গণনার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, অনুদান গণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের পোশাকে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্ট। নতুন এই পোশাকে কোনও পকেট রাখা হবে না— যা ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ বা অন্য কোনও সামগ্রী বাইরে নিয়ে যাওয়া রুখতেই না কি এই পদক্ষেপ।
গণনা কেন্দ্রের ঢোকা এবং বেরনোর উভয় পথেই গণনা-কর্মীদের কঠোর ভাবে তল্লাশি করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও, গণনা কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের সময়সীমা ৪৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হয়েছে।