Advertisement
E-Paper

ফের ‘এনকাউন্টার’! অন্ধ্রপ্রদেশে করাত-আক্রমণের অভিযুক্তকে গুলি পুলিশের, ছাত্রীর পরিবার বলেছিল, ‘ওকে মেরে ফেলুন’

গুরুতর জখম অবস্থায় ২১ বছর বয়সি হেমন্ত ওরফে দাম্মুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তরুণ পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ২২:২৬
(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত হেমন্ত ওরফে দাম্মু। যে করাত দিয়ে স্কুলছাত্রীর উপর হামলা হয় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত হেমন্ত ওরফে দাম্মু। যে করাত দিয়ে স্কুলছাত্রীর উপর হামলা হয় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

জখম ছাত্রীর পরিবার সকালেই দাবি করেছিল, “এনকাউন্টারে মারা হোক পাগলটাকে।” ঘটনাচক্রে, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুলে করাত-হামলায় অভিযুক্ত তরুণ। গুরুতর জখম অবস্থায় ২১ বছর বয়সি হেমন্ত ওরফে দাম্মুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তরুণ পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি বাহিনীর উপর হামলা করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, তাদের কাছে খবর ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছেন অভিযুক্ত। সেইমতো তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় পৌঁছোয়। ওই সূত্রের দাবি, হেমন্তকে ধরার চেষ্টা করলে তিনি ছুরি দিয়ে পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করেন। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়েন বলে দাবি। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, তাতে বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী জখম হন। সে সময়ে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ছয় রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই গুলিবিদ্ধ হন হেমন্ত। তাঁকে অনন্তপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

গত শনিবার অনন্তপুরের এক স্কুলের ক্লাসরুমে ঢুকে দশম শ্রেণির ছাত্রীর উপর করাত দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে হেমন্তের বিরুদ্ধে। ওই হামলায় গুরুতর জখম হয় ১৫ বছর বয়সি ওই ছাত্রী। তার গলা, মুখ ও পেটে গভীর ক্ষত ছাড়াও ডান হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ছাত্রী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে।

ওই ঘটনার পর রবিবার সকালেই এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আক্রান্ত ছাত্রীর পরিবার দাবি করেছিল, অভিযুক্তকে ‘এনকাউন্টারে’ মারা হোক। ছাত্রীর দাদা মুডাগা কাতামাইয়া বলেন, ‘‘আমার বোনের প্রতি ওই অভিযুক্তের একতরফা আকর্ষণ ছিল। তবে এই কথা আমরা কেউ জানতাম না। ওই ছেলেটা মানসিক বিকারগ্রস্ত। যদি আমরা এ ব্যাপারে আগে জানতাম, তা হলে সতর্ক হতে পারতাম।’’

এ-ও জানান, অভিযুক্তের থেকে আগে থেকে কোনও হুমকিও পাননি। তার পরেই কাতামাইয়ার দাবি, ‘‘আমরা চাই ওই পাগল, যে আমাদের মেয়ের উপর হামলা করেছে, পুলিশ যেন তাকে এনকাউন্টার করে।’’ ঘটনাচক্রে, পরিবারের ওই দাবির কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হলেন অভিযুক্ত।

অন্ধ্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী নারা লোকেশ রবিবার সকালে জানান, বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল ওই ছাত্রীকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করার পর বর্তমানে তার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন যে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার আক্রান্ত ছাত্রীর সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ বহন করার ঘোষণা করেছে।

Andhra Pradesh

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy