আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুতে বিতর্ক বাড়তেই সেই অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে এ বার ছুটিতে পাঠালেন কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হতেই এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিরুদ্ধে জাতপাত তুলে আক্রমণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সোমবারই তাঁকে প্রশাসনিক বিষয়ক ডিনের পদ থেকে সরানো হয়।
ইতিমধ্যেই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে ওই কমিটিকে। অন্য দিকে, সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় মুম্বইয়ের অপরাধদমন শাখাও আলাদা ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক দুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সাহিলের মৃত্যুর আগে অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, সেই সব বিষয় জানার চেষ্টা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
মঙ্গলবারই সাহিলের বাবা-মায়ের বয়ান রেকর্ড করেছে অপরাধদমন শাখা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সাহিলের বাবা-মা অভিযুক্ত দুই অধ্যাপক শিরীষ কেদারে এবং সূর্যনারায়ণ দুল্লার ইস্তফা দাবি করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের গ্রেফতারিরর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। এই দাবি যদি না মানা হয়, তা হলে অনশনে বসবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, ‘‘আইআইটি বম্বের ক্যাম্পাসে যে জাতপাত নিয়ে আক্রমণ চলে, তার প্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। যদি পুলিশ আআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক শিরীষ কেদারে এবং অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে গ্রেফতার না করে, তা হলে অনশনে বসব।’’
ঘটনাচক্রে, ফের এক বিবৃতি জারি করে তাদের আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। তাঁরা দাবি করেছিলেন, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকল করেছিলেন সাহিল। সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে আইআইটি কর্তৃপক্ষ তাঁদের আগের বিবৃতির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘‘সাহিলের মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর সম্পর্কে আমাদের আগের বিবৃতির জন্য আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।’’
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিলের ঝুলন্ত দেহ তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়। সেই মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে আইআইটি বম্বের ক্যাম্পাস। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যের অভিযোগে সরব হয়েছেন সাহিলের বাবা-মা। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে সাহিলের মৃত্যুর পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিলেন ওই ছাত্র। চ্যাটজিপিটি খুলে গোটা প্রশ্নপত্রটাই তাতে আপলোড করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে উত্তর সংগ্রহ করে লিখছিলেন। এই প্রক্রিয়ার সময় হলঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কাছে তিনি ধরা পড়ে যান। এর পর বিভাগীয় প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ওই ঘটনার কোনও প্রভাব ছাত্রের কেরিয়ারে পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন অধ্যাপকেরা, দাবি করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। যদিও কর্তৃপক্ষের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই পাল্টা দাবি করেছেন সাহিলের অভিভাবকেরা। দুই অভিযুক্ত অধ্যাপকের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।