বিতর্কিত পডকাস্ট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আগে থেকেই অনলাইন দুনিয়ায় নিজের ‘পরিচয়’ তৈরি করে নিয়েছিলেন স্বঘোষিত গোরক্ষক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। তাঁর সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলগুলিতে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। স্বতন্ত্রের পোস্ট করা কিছু ছবি তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতারও দিকেও ইঙ্গিত করে। বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। এমনকি, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্রের একটি ছবিও রয়েছে তাঁর হ্যান্ডলে।
‘ককরোচদের’ আন্দোলনে বিক্ষোভকারী এক ছাত্রীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নিজেই ওই হামলার কথা স্বীকার করেছেন। ২২ বছর বয়সি ওই অভিযুক্তকে শনিবার গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁর ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ৩ লক্ষ ২৭ হাজার। ইনস্টাগ্রামেও (বর্তমানে ডিঅ্যাক্টিভেটেড) ১ লক্ষ ৮৪ হাজার। এক্স-এও তাঁর একটি ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে ফলোয়ার রয়েছে ৭,০০০-এরও বেশি। ধৃতের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের ছবি রয়েছে। ওই ছবির সঙ্গেও তিনি ‘গোরক্ষক’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছিলেন।
স্বতন্ত্রের পোস্ট করা অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের একটি আমন্ত্রণপত্র। ২০২৪ সালে মোদী সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রেরও ছবি দেখা যাচ্ছে অন্য একটি পোস্টে। এ ছাড়া বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী, দিল্লির শ্রমমন্ত্রী কপিল মিশ্র এবং কেন্দ্রীয় খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান-সহ বিভিন্ন রাজনীতিকের সঙ্গেও অতীতে ছবি পোস্ট করেছেন স্বতন্ত্র।
বিতর্কের মাঝে শুক্রবারই অবশ্য মুখ খুলেছেন চিরাগ। কেন্দ্রীয় ওই মন্ত্রীর দাবি, স্বতন্ত্র তাঁর এবং অন্য রাজনীতিকদের নামের অপব্যবহার করেছেন। স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান চিরাগ।
সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সমাজমাধ্যমে সরব থেকেছেন স্বতন্ত্র। যা থেকে অনেকেই মনে করছেন, বিতর্কিত ওই পডকাস্টে তাঁর মন্তব্য এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে খুব একটা ফারাক ছিল না। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর বায়োতে লেখা আছে, ‘আধুনিক যুগের এক তরুণ, যে নিজের ধর্ম এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু সহ্য করতে পারে না।’
আরও পড়ুন:
গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তার ঠিক আগের দিনই এক্স-এর ‘ট্রেন্ডিং’ তালিকায় নিজের নামের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অভিযুক্ত। সঙ্গে সমালোচকদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, “বিরোধীদের সকলকে আমি ভালবাসি।”
ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন স্বতন্ত্র। ছবিতে নিজের হাতের একটি ধাতব বালা উঁচিয়ে দেখাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে লেখেন, “কত জোর দেখেছেন!” পরে দিল্লি পুলিশ একটি বিবৃতিতে জানায়, আন্দোলনকারী ছাত্রীর বাবাকে ধাতব বালা দিয়েই আঘাত করেছিলেন অভিযুক্ত।
ধৃতের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে এমনও বেশ কিছু ভিডিয়ো ছিল যেখানে তিনি ককরোচদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন। আবার অন্য একটি ভিডিয়োয় লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করতেও দেখা যাচ্ছে তাঁকে।