E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

স্থূলতা বেশি মহিলাদের, সমীক্ষায় এগিয়ে শহর

২০২৩-২৪ সালে সারা দেশের (মণিপুর বাদে) ৭১৫টি জেলার ৬.৭৯ লক্ষ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত সমীক্ষা চালিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং মুম্বইয়ের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব পপুলেশন সায়েন্সেস।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৩৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা বাড়ছে। কী শহরে, কী গ্রামে। আর মহিলাদের মধ্যে এই হার বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সমীক্ষায় এমনই উদ্বেগজনক প্রবণতা উঠে এসেছে।

২০২৩-২৪ সালে সারা দেশের (মণিপুর বাদে) ৭১৫টি জেলার ৬.৭৯ লক্ষ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত সমীক্ষা চালিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং মুম্বইয়ের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব পপুলেশন সায়েন্সেস। তাতে ১৫-৪৯ বছর বয়সিদের স্থূলতার বিষয়টিও ছিল। দেখা গিয়েছে, ২০১৯-২১ সালে পুরুষদের মধ্যে ২২.৯ শতাংশের ওজন ছিল স্বাভাবিকের থেকে বেশি। পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৪.৪ শতাংশ বেড়ে ২৭.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০.৭ শতাংশ। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, শহরের মানুষের মধ্যে স্থূলতার হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেখানে ৩৬.৩ শতাংশ পুরুষ স্থূল। গ্রামে তা ২৩ শতাংশ। মহিলাদের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৪২.৮ শতাংশ এবং ২৫.৫ শতাংশ। সম্প্রতি সরকার সমীক্ষাটি প্রকাশ করেছে।

গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রের আর্থিক সমীক্ষাতেও স্থূলতার সমস্যার কথা বলা হয়েছিল। সেখানে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছিল শিশুদের অতিরিক্ত ওজনের দিকটিতে। উল্লেখ করা হয়েছিল, অতি প্রক্রিয়াজাত-সহ যাবতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার, জীবনযাপনের পরিবর্তন, শারীরিক সক্রিয়তা কমা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত কারণে সমস্ত বয়সি মানুষের স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। তার ফলে বাড়ছে ডায়াবিটিস, হৃদ্‌রোগ এবং হাঁপানি। বলা হয়, ২০২০ সালের ভারতে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩.৩ কোটি। ২০৩৫ সালে তা ৮.৩ কোটিতে পৌঁছে যেতে পারে। এর মূল কারণ খাদ্যাভ্যাসের অবনতি।

এ দফার সমীক্ষায় উঠে এসেছে ১৫ বছরের বেশি বয়সিদের রক্তে চিনির হার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ার দিকটিও। এই সমস্যায় আক্রান্ত (ডেসিলিটারে ১৪০ মিলিগ্রামের বেশি) কিংবা ওষুধ খেতে হয় এমন পুরুষ ১৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০.৯ শতাংশ। এখানেও শহর (২৩.৯ শতাংশ) গ্রামের (১৯.৭ শতাংশ) তুলনায় এগিয়ে। মহিলাদের এই হার কম। যদিও উদ্বেগজনক। পাঁচ বছরে তা ১৩.৫ শতাংশ থেকে পৌঁছেছে ১৭.৮ শতাংশে। শহরে তা ২১.৯ শতাংশ। গ্রামে ১৬.২ শতাংশ।

সিজ়ারিয়ান ডেলিভারি বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। ২০১৯-২১ সালের ৪৭.৪ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫৪.১ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ১৪.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬.৯ শতাংশ। একটি ইতিবাচক দিক অবশ্য উঠে এসেছে সমীক্ষায়। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত খর্বকায় শিশুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ৩৫.৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৯.৩ শতাংশ।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Obesity Health care

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy