E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অনুপ্রবেশ: দিল্লি-ঢাকার সম্পর্কে ধাক্কার আশঙ্কা

এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আসার কোনও তারিখ নির্দিষ্ট হয়নি। কিন্তু এটা স্থির হয়ে গিয়েছে, চিন সফরে যাবেন তারেক জুনের শেষে। সূত্রের খবর, দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৯:৩১

— প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কেন্দ্র বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ নিয়ে স্বর এক ধাপে অনেকটাই চড়িয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক শিবির। তার ফলে সে দেশের তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে দিল্লির মধুচন্দ্রিমা ধাক্কা খেতে পারে কি না সেই প্রশ্ন উঠছে।

এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আসার কোনও তারিখ নির্দিষ্ট হয়নি। কিন্তু এটা স্থির হয়ে গিয়েছে, চিন সফরে যাবেন তারেক জুনের শেষে। সূত্রের খবর, দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ এবং চিনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে কথা হবে। তিস্তা প্রকল্প, মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ, সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি উড়ান চালু করা নিয়েও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলবেন তারেক। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ‘তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বাংলাদেশ চিনের সঙ্গেই করবে। প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা জমানার শেষ পর্বে এই প্রকল্পটি পাওয়ার কথা ছিল ভারতেরই। খলিলুর জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে পাকা কথা হয়েগিয়েছে।

বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছে উদ্বেগের। কিন্তু পাশাপাশি, অনুপ্রবেশের বিষয়টি শাসক দলের কাছে এতটাই বড় রাজনৈতিক বিষয় যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার ছায়াপাত কতটা হতে পারে, তা নিয়ে এখনই হিসাব করা হচ্ছে না বলেই কূটনৈতিক সূত্রের খবর। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বার বলেছেন,“বিষয়টি নিয়ে (পুশ ব্যাক) গত কয়েক দিনের বেশ কিছু মন্তব্য কানে এসেছে। একে দেখা উচিত ভারত থেকে বেআইনি ভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর মূল বিষয়টির সঙ্গে সংলগ্ন ভাবে। অবশ্যই তার জন্য আমাদের বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। ২৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাই মামলা বাংলাদেশ ফেলে রেখেছে। তার মধ্যে অনেকগুলির পাঁচ বছরের বেশি সময়েও নিষ্পত্তি হয়নি।”

নিঃসন্দেহে ভারতের এই ভাষ্য ঢাকাকে কিছুটা বিরূপ করছে, যা ভবিষ্যতে ফাটলের আকার নিতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ভারত-ঢাকা সম্পর্ক প্রসঙ্গে ঘরোয়া রাজনৈতিক স্বার্থ ও অগ্রাধিকার এবং প্রতিবেশী কূটনীতির মধ্যেকতটা ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারে মোদী সরকার, এখন সেটাই দেখার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
India-Bangladesh Border Bangladeshi Infiltration BJP West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy