‘অটিজ়ম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’-এ থাকা ৩০ বছর বয়সি ছেলের সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুই কর্মীর অনুপযুক্ত আচরণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরে, ত্রিপুরার বাসিন্দা ওই যুবকের মার কাছে ক্ষমা চাইল উড়ান সংস্থা। ঘটনাটি গত ১৫ অগস্ট আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে ঘটেছিল।
অভিযোগকারিণী রত্নাবলী রায় সেনগুপ্তের দাবি, তিনি তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত স্বামী এবং ৩০ বছর বয়সি ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’-এ থাকা ছেলেকে নিয়ে আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য ১৫ অগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার বিমানে যাচ্ছিলেন। তাঁর ছেলের কাছে বৈধ ইউডিআইডি প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্রও ছিল।
রত্নাবলী দাবি করেন, নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করার সময়ে এয়ার ইন্ডিয়ার দুই কর্মী তাঁর ছেলের মুখ থেকে বার হওয়া অনিচ্ছাকৃত শব্দের জন্য তাঁকে তিরস্কার করেন। তাঁরা এমনও বলেন, পাইলট চাইলে তাঁদের বিমান থেকে নামিয়ে দিতে পারেন এবং সহযাত্রীরা আপত্তি জানাতে পারেন। এমনকি ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিমানে তোলার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন রত্নাবলী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওই ঘটনার পরে মানসিক ভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম আমরা। তবে বিমানে তাঁর ছেলে কিছু শব্দ করলেও কোনও যাত্রী বা কেবিন ক্রু-র কোনও সদস্য এ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ করেননি।’’
অভিযোগপত্রে তিনি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের গ্রাউন্ড স্টাফদের ওই ব্যবহারকে “সংবেদনশীলতাহীন ও বৈষম্যমূলক” আচরণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অটিজ়ম ও অন্য প্রতিবন্ধকতা আছে এমন ব্যক্তিদেরও অন্যদের মতোই সম্মানের সঙ্গে ভ্রমণ করার এবং চিকিৎসা ও শিক্ষা পরিষেবা পাওয়ার অধিকার আছে।’’
তাঁর অভিযোগের পরে ওই সংস্থা পরিবারটির প্রতি দুঃখপ্রকাশ করে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। উড়ান সংস্থা জানিয়েছে, এই অভিজ্ঞতার কারণে পরিবারটি যে মানসিক যন্ত্রণা ও অসুবিধার মধ্যে পড়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত। তারা আরও জানিয়েছে, প্রত্যেক যাত্রীকে মর্যাদা, সম্মান ও সহানুভূতির সঙ্গে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কথোপকথন নিয়ে রত্নাবলীর অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে ও প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।