কলেজিয়ামের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেওয়ার পর এখন ভারতের প্রতিটি হাই কোর্টেই স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছে।
গত জুলাই মাসেই অবশ্য ভারতের পঁচিশটি হাই কোর্টের মধ্যে সাতটিতেই স্থায়ী প্রধান বিচারপতিরা ছিলেন না। সেখানে কাজ চালাতেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিরা। গত দু’মাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের সংখ্যা এতটা বেশি হওয়ার কারণ অবশ্য রয়েছে। বিচারপতিদের বদলি, অবসরের বিষয় ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার পদক্ষেপও এ জন্য দায়ী। তবে অগস্টের ৬ তারিখ কলেজিয়াম পাঁচটি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করে। কেন্দ্রীয় সরকার যা মেনে নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে অশ্বিনী কুমার মিশ্রের নাম নিয়ে পঞ্জাব সরকারের মতামত নেওয়া হয়নি বলে রাজ্য সরকারের ক্ষোভ ছিল। ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মিশ্রও শপথ নিয়েছেন।
অগস্টের শেষেই সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি লিখে প্রস্তাব দিয়েছেন, রাজস্থান হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মাকে সরিয়ে সেই জায়গায় স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হোক। ৩১ অগস্ট কলেজিয়ামের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। কলেজিয়াম ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কে আগরওয়ালকে রাজস্থান হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি করার প্রস্তাব দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৭ সেপ্টেম্বর সেই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পর বিচারপতি আগরওয়াল শপথ নিয়ে নিয়েছেন। কলেজিয়ামের ওই বৈঠকেই মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দু’টি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাবও মেনে নিয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন হাই কোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতিরা শপথ নিয়ে নিয়েছেন।