নিট প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার জেরে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতেই নিট পরীক্ষা বা যন্তরে মন্তরে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোনও প্রশ্ন সংসদে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠল শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে। আজ ওই অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সংসদে না হলে আর কোথায় জবাবদিহি করবে সরকার?’’
আজ সমাজমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে সিজেপির ওই নেতা অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ুর নামাক্কল কেন্দ্রের ডিএমকে সাংসদ ভি এস মাথেস্বারন নিট ও পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শিক্ষা মন্ত্রকের উত্তর চেয়ে তিন সেট প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। ওই প্রশ্নগুলিতে নিট পরীক্ষার আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া, সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা বৃদ্ধি পাওয়া, সিজেপি আন্দোলনস্থলে পানীয় জল ও শৌচাগারের সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা কী ভাবে চলেছে তা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের প্রেক্ষিতে শিক্ষা সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের কেমন আচরণ করেছে, তা নিয়েও কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ওই ডিএমকে সাংসদ। সৌরভের অভিযোগ, অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে ওই প্রশ্নগুলি প্রত্যাখান করে দেয় সরকার। যার ফলে প্রশ্নগুলি সংসদে আসেনি।
লোকসভা কার্যপ্রণালী ও কার্য পরিচালনা নিয়মের ৪১(২) ধারা অনুসারে সাংসদদের করা প্রশ্নকে নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। সৌরভের দাবি, ওই প্রশ্নগুলিকে ৪১(২) ধারার (১), (৪), (৫), (১৮), (২২) উপধারায় বাতিল করা হয়। সৌরভ বলেন, ‘‘যদি এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংসদে করতে না দেয়, তবে সরকার আর কোথায় জবাবদিহি করবে?’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘তবে কি এর জন্য আবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে?’’ পড়ুয়াদের বিক্ষোভ নিয়ে চলা আন্দোলনের সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন সংসদে এসে আন্দোলনকারীদের উপরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিলেন না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
সৌরভের কথায়, ‘‘ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মন্ত্রীদের থেকে জবাবদিহি পাওয়ার জন্যই প্রশ্নোত্তর পর্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকার সব প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র এ ভাবে সাংসদদের মুখ বন্ধ করতে পারে না। এটা কোনও ভাবেই স্বপ্নের ভারত নয়।’’ এরই মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের দিন সিজেপি-র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিজেপি-র মতে, স্বাধীনতা দিবসের দিন তাঁদের কণ্ঠরোধ করতেই ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য সন্ধ্যায় আবার আক্যাউন্টটি সক্রিয় হয়।