কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছিলেন চণ্ডীগড়ে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন হরিয়ানার রোহতকে। কিন্তু আজ গোটা বিজেপির চোখ ছিল বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’র রামলীলা ময়দানের সমাবেশে। সেই জনসভা শেষ হতেই বিজেপি সাংবাদিক বৈঠক করে প্রশ্ন তুলল, ‘কোথায় দশ লক্ষ মানুষ’? কংগ্রেসের পাল্টা, কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত রোড-শোয়ে কয়েক লক্ষ মানুষ শামিল হয়েছিলেন।
বিরোধী নেতারা অনেকেই দাবি করেছিলেন, রামলীলা ময়দানে ১০ লক্ষ মানুষের ভিড় হবে। ১০ লক্ষ ভিড় কথার কথা হলেও বিরোধীদের লক্ষ্য ছিল, ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষকে রামলীলা ময়দানে নিয়ে আসা। বেলা ১২টা থেকে রামলীলা ময়দানে সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের ‘চলো দিল্লি জনমিছিল’ নামের রোড-শো চলেছে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের জনসভা শেষের পরেই বিজেপির সদর দফতরে দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র রামলীলা ময়দানের ড্রোন-ক্যামেরা থেকে তোলা ভিডিয়ো দেখিয়ে দাবি করেছেন, ‘‘বেলা সাড়ে ৩টের সময় রামলীলা ময়দানের ৪০ শতাংশ ফাঁকা ছিল। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ১০ লক্ষ মানুষ আসবে। ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে ৫ থেকে ৭ হাজার ফাঁকাই ছিল। ঘাম ঝরিয়ে, পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রী হতে হয়। ক্যামেরার কারসাজিতে ভিড় দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় না।’’ চণ্ডীগড়ে রাহুল গান্ধী-সনিয়া গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করে শাহ বলেছেন, ‘‘সনিয়া গান্ধীর স্বপ্ন, ওঁর আদরের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু এই স্বপ্ন পূর্ণ হবে না। তাই রাহুল গান্ধী এখন সংসদের নকল অধিবেশন করছেন। রাহুলজি, আপনি নকল সংসদই করতে থাকুন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী হোন। আপনার নম্বর কোনও দিনও আসবে না।’’
কংগ্রেস পাল্টা বলেছে, শুধু রামলীলা ময়দানের ভিতরে নয়। কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত বিরোধীদের যে রোড-শো হয়েছে, তাতে গোটা রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। শুধু সেই ভিড়ের সংখ্যাটাই কয়েক লক্ষ। তার বিপরীতে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দু’দিন আগে দিল্লির চাঁদনি চকে পদযাত্রা করেছিলেন। সেখানে মাত্র চারশো লোক ছিল।
বিজেপির তিরের জবাবে রাহুল নিজে ইনস্টাগ্রামে রামলীলা ময়দানে ভিড়ের ড্রোন থেকে তোলা ভিডিয়ো পোস্ট করে বলেছেন, ‘‘গণতন্ত্রের গদ্দাররা দেখে নিক দেশভক্ত ভারতের শক্তি।’’ দিল্লির মানুষ ‘গণসুনামি’র সাক্ষী থেকেছেন দাবি করে কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘‘এ হল মোদীর ফ্যাসিবাদী রাজত্বের শেষ। বিজেপি দিল্লির সীমানায় কংগ্রেসের সমর্থকদের গাড়ি আটকে দিয়েছে। শুধু ইন্ডিয়া জোট নয়, সমস্ত নাগরিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। কংগ্রেসের সমস্ত সংগঠন এককাট্টা হয়ে কাজ করেছে। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য থেকেও বহু মানুষ এসেছিলেন।’’
বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’ নিয়ে আন্দোলনের জবাবে বিজেপি ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি শুরু করেছে। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতেই বিজেপির নিতিন নবীন রোহতকে গিয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ফরিদাবাদে এই কর্মসূচিতে আজ যোগ দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। যন্তর মন্তর আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে এই প্রথম তিনি বিজেপির সমাবেশে যোগ দিলেন। রোহতকে নবীন বলেছেন, ‘‘বিজেপির কাছে হেরে যাওয়া কংগ্রেস, আরজেডি, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো দল এককাট্টা হয়েছে।’’
শাহ থেকে জে পি নড্ডা আজ ফের ১ নভেম্বর চুরাশির শিখ দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিন রামলীলার জনসভা নিয়ে গান্ধী পরিবার তথা কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। পঞ্জাবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে চণ্ডীগড়ে শাহ বলেন, ‘‘১৯৮৪ সালে ১ নভেম্বর কংগ্রেস দিল্লিতে হাজারো নির্দোষ শিখকে হত্যা করেছিল। সেই দিনেই রাহুল গান্ধী দিল্লিতে জলসা করে শিখদের কাটা ঘায়ে নুন ছড়িয়েছেন।’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীর নেতৃত্বে দিল্লির হরিনগরে শিখদের নিয়ে পদযাত্রাও করেছে বিজেপি। শাহ বলেন, ‘‘পঞ্জাবের মানুষ কংগ্রেসের এই ভুল ক্ষমা করবেন না।’’