উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল সাজাতে অমিত শাহ শুক্রবার লখনউ পৌঁছনোর পরে সমাজবাদী পার্টি বলেছিল, এর ফলে যোগী আদিত্যনাথের ব্যর্থতা প্রমাণিত হল। নরেন্দ্র মোদীর উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে অমিত শাহ ও যোগী আদিত্যনাথের প্রতিযোগিতা নিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে গুঞ্জনকে উস্কে দিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি।
এই গুঞ্জনকে ধামাচাপা দিয়ে বিজেপির রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠকে শাহ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা জানিয়ে বললেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সরকার রামায়ণের ‘অঙ্গদের পা’-এর মতো। তাকে সরানো যায় না। ৩০ বছর উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।’’ গত ১০ বছরে মাফিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতি ও উন্নয়নের প্রশংসা করে শাহ বলেছেন, বিজেপি উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় বার ক্ষমতায় এসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করবে। ভোটের মেরুকরণ করতে মুলায়ম সরকারের আমলে অযোধ্যায় করসেবকদের উপর পুলিশের গুলিচালনার ঘটনা তুলে আনেন তিনি। যোগীকে মুখ করেই বিজেপি যে ভোটে লড়বে, তা স্পষ্ট করে উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা বিনোদ তাওড়ে বলেছেন, ‘‘অমিত শাহ বার বার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। যারা বোঝার, তারা বুঝে যাবেন।’’ বিধান পরিষদের নির্বাচনে বিজেপি বারাণসীর দু’টি কেন্দ্র, লখনউয়ের একটি কেন্দ্রে স্নাতক, শিক্ষকদের ভোটে হেরে গিয়েছে। যোগীর গড় গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদে জিতেছে কান ঘেঁষে। বিজেপি ছ’টি আসনে জিতলেও পাঁচটি আসনে হেরেছে। ২০১৭-র বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ৪০৩ আসনের বিধানসভায় ৩১২ আসনে জিতলেও গত লোকসভা ভোটে ধাক্কা খেয়েছিল। শাহ এ বার ৩১৩ আসন জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন। তিনি মনে করিয়েছেন, ২০১৪-তে রাজ্যে বিজেপির মাত্র ৪৪ জন বিধায়ক ছিল। তিনি সে সময় উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। সংগঠন মজবুত করায় বিজেপি লোকসভা ভোটে ৭৩টি আসন জিতেছিল।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের কটাক্ষ, ‘‘ওই পাঁচটি আসনে হারের অর্থ ৫০টি জেলায় হার। আমজনতা বুঝে গিয়েছে, বিজেপি ওই ছ’টি আসনেও বেইমানি করে জিতেছে।’’ অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘মহানুভবের আসতে আসতে অনেক দেরি হয়ে গেল।’’ বিধান পরিষদের হারের পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অন্যতম কারণ বলে বিজেপি মনে করছে। তাই শাহ দলে সমস্ত মতভেদ গোমতীর জলে ছুড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে অর্জুনের মতো বিধানসভা ভোটে জয়কে পাখির চোখ করতে বলেছেন। সমস্ত নেতাকে এককাট্টা করতে ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ সিংহকে রাজ্যে বিজেপির কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন পদকজয়ী মহিলা কুস্তিগিররা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৭-এ উত্তরপ্রদেশে খারাপ ফল হলে ২০২৯-এ লোকসভা ভোটের লড়াইও যে কঠিন হবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শাহ।