মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শহরে দাঁড়িয়ে গোরক্ষপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাল দশা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হলেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল। বিজেপির ঘরোয়া রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন। বিরোধীদের বক্তব্য, গোরক্ষপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ওই সমালোচনার মাধ্যমে আসলে নিজের শহরেই প্রশাসক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী যোগী কতটা ব্যর্থ, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন রাজ্যপাল। তাঁর এমন সমালোচনায় প্রশ্ন উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগীর ভবিষ্যৎ নিয়ে! এসপি নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, “উত্তরপ্রদেশের ডাবল ইঞ্জিনের সরকার ট্রাবল (সমস্যা) ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে!”
বিতর্কের শুরু গত বৃহস্পতিবার। গোরক্ষপুরের দীনদয়াল উপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনন্দীবেন সার্বিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাওয়াদাওয়ার হাল থেকে পড়ুয়াদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আনন্দীবেন বলেন, “ছাত্রীদের হস্টেলে মেস থাকলেও ছাত্রদের নেই।” তাঁর প্রশ্ন, “ছাত্রদের কি বাইরের খাবার বেশি ভাল লাগে?” পড়ুয়াদের খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি যে আন্তরিক, তা বোঝাতে খাবারের মান কেমন, তা পরীক্ষা করে দেখারও নির্দেশ দেন। স্থানীয় পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষা ছাড়াও লখনউয়ে পাঠানো হয় নমুনা। সেই নমুনা পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তিনি ওই কাজ করেছেন বলে দাবি করলেও খাবারের মান নির্ণয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা না রাখার বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি, খাবার দেওয়ার নাম করে হস্টেলে মাদক ঢুকছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আনন্দীবেন। সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের মাস ছয়েক আগে যোগীর শহরে দাঁড়িয়ে প্রশাসক যোগীর ব্যর্থতার দিকগুলি তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর শহরে যদি এই অবস্থা হয়, তা হলে বাকি রাজ্যের কী অবস্থা হবে!”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সমালোচনা করার অধিকার রাজ্যপালের রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপির সরকার থাকার পরেও এ ধরনের সমালোচনা একেবারেই বিরল। ঘটনাচক্রে আনন্দীবেন মোদী-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। বিরোধীরা বলছেন, স্বভাবতই প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া রাজ্যপালের প্রকাশ্যে অন্তত এ ধরনের বার্তা দেওয়া সম্ভব নয়। রাজনীতিকদের মতে, ওই ঘটনা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগী আদিত্যনাথের দূরত্ব, পারস্পরিক টানাপড়েনকে ফের এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “আশা করব আনন্দীবেন এ রকম ভাবেই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মুখোশ ভবিষ্যতেও খুলে দেবেন।”