Advertisement
E-Paper

মাদক বিক্রি হচ্ছিল ওষুধের দোকানে! প্রতিবাদ করায় সমাজসৈনিককে গুলি করে মেরেই ফেলা হল পঞ্জাবে

ফেসবুক লাইভে ওষুধের দোকানদারের বিরুদ্ধে বেআইনি নেশার সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ তুলছিলেন সমাজসৈনিক পরবিন্দর সিংহ ঝোটা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন আচমকাই পিস্তল বার করে তাঁকে গুলি করে খুন করে অভিযুক্ত দোকানদার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪৪
নিহত সমাজসৈনিক পরবিন্দর সিংহ ঝোটা।

নিহত সমাজসৈনিক পরবিন্দর সিংহ ঝোটা। ছবি: সংগৃহীত।

ক্যামেরা চলছে। ফেসবুকে লাইভে দেখা যাচ্ছে ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে বচসা। আরও দেখা যাচ্ছে, দোকানির হাতে পিস্তল ধরা। যাঁর ক্যামেরায় লাইভ হচ্ছে, তাঁকে এক সময় বলতে শোনা গেল, ‘‘মার মুঝে, মার মুঝে’’। তার পরই চলল গুলি। হাত থেকে ফোন পড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেল ফেসবুক লাইভও। নিহত সমাজসৈনিকের নাম পরবিন্দর সিংহ ঝোটা। মঙ্গলবার পঞ্জাবের মানসার ঘটনা।

ওষুধের দোকানে বেআইনি নেশার সামগ্রী বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক পরিণতি। খোদ ওষুধের দোকানদারের গুলিতে প্রাণ হারালেন পঞ্জাবের এক পরিচিত মাদকবিরোধী সমাজসৈনিক। নিহতের চার সঙ্গীও গুলিতে আহত হন। বচসা এবং খুনের ঘটনাটি ঝোটার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ সম্প্রচারিত হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত দোকানদার।

ওষুধের দোকানে নেশাদ্রব্য বিক্রির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন পরবিন্দর। মঙ্গলবার এক প্রৌঢ়কে সঙ্গে নিয়ে একটি ওষুধের দোকানের সামনে যান তিনি। পরবিন্দরের দাবি ছিল, ওই প্রৌঢ় ওই দোকান থেকেই মাদক কিনেছেন। পাঁচ মিনিটের সেই ফেসবুক লাইভ ভিডিয়োয় দেখা যায়, দোকানদারের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। বচসা চলাকালীন ওই দোকানদারকে একটি পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরবিন্দর তাঁকে প্রশ্ন করেন, “পিস্তল কেন রেখেছেন?” শুধু তা-ই নয়, বুক চিতিয়ে তিনি দোকানদারকে বলতে থাকেন, “মার মুঝে, মার মুঝে (আমাকে মার, মার আমাকে)!” একই সঙ্গে তিনি তাঁর সঙ্গীদের পুলিশ ডাকতে এবং আরও লোক জড়ো করতে বলেন।

লাইভ ভিডিয়োয় পরবিন্দরকে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবি করতে শোনা যায়। তখন দোকানদার ওই প্রৌঢ়কে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি সত্যিই তাঁর কাছ থেকে ‘ড্রাগ’ কিনেছেন কি না। উত্তরে পরবিন্দর বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের কাছে রেকর্ডিং আছে।” অভিযোগ, প্রায় চার মিনিট ধরে এই তীব্র বচসা চলার পর আচমকাই গুলি চালিয়ে দেন ওই দোকানদার। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পরবিন্দর, তাঁর হাত থেকে ফোন পড়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভও বন্ধ হয়ে যায়।

মানসা এবং সংলগ্ন এলাকায় মাদকপাচার ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালাচ্ছিলেন পরবিন্দর। ফেসবুকে তাঁর ২৪ হাজারেরও বেশি অনুসরণকারী রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসেও এক ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে তাঁর বিবাদ বাধে। সেই ঘটনায় মারধর, বেআইনি জমায়েত ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে পুলিশ পরবিন্দর ও তাঁর কয়েক জন সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছিল। দু’মাস পর তিনি ছাড়া পান। আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি পঞ্জাবের বহুচর্চিত মাদক সমস্যাকে ফের প্রকাশ্যে আনল।

Anti Drug Camapign Shooting Punjab

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy