নতুন মোড়কে পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠল বেঙ্গালুরুতে। খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালায় কর্নাটক ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেফটি (কেএসএফডিএ)। এই এক সপ্তাহের অভিযানে আমাজ়ন, ইনস্টামার্টের গুদামঘর-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন লেবেলে মোড়ানো মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করেছে তারা। পাশাপাশি, যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, সে রকম একটি চক্রকেও ধরা হয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউটি কাদের জানান, বেঙ্গালুরুতে নিয়ম না মানায় একটি ‘পেপটাইড পার্টি’ বাতিল করা হয়েছিল। সেখান থেকেই এই চক্রের সন্ধান মেলে। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন তথ্য থেকে জানতে পারি তারা কোথা থেকে এই সামগ্রীগুলি সংগ্রহ করেছিল। এও জানতে পারি যে তারা আমাজ়নের একটি ডার্ক স্টোর থেকে এগুলি এনেছিল।”
কেএসএফডিএ-র আধিকারিকেরা দেবনাহাল্লিতে অবস্থিত আমাজ়নের ‘বিএলআর৬’ নামের একটি গুদামে অভিযান চালান। সেখান থেকে ভুয়ো লেবেলযুক্ত ১৪ লক্ষ টাকার খাদ্যপণ্য, ১০ লক্ষ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য এবং লাইসেন্স ছাড়া মজুত করা ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এ ছাড়াও, মাদিওয়ালায় আমাজ়নের ‘বিএলআর৭’ নামের একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ লক্ষ টাকার ভুয়ো লেবেলযুক্ত খাদ্যসামগ্রী এবং ১৩ লক্ষ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি, ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার লাইসেন্স ছাড়া ওষুধও উদ্ধার করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “লিঙ্গরাজপুরমে একটি শেড থেকে ‘লিও ৭ এন্টারপ্রাইজেস’ নামে একটি এজেন্সি চালানো হচ্ছিল। আমরা সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য পেয়েছি, যার মূল্য প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকা।” অভিযানের পর এই কেন্দ্রটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
আধিকারিকেরা হোসকোটের একটি ইনস্টামার্ট কেন্দ্রও বন্ধ করে দিয়েছেন। সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কেএসএফডিএ জানিয়েছে, ওই কেন্দ্রে তদন্ত এখনও চলছে এবং সেখানে থাকা ভুল লেবেলযুক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের মোট মূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকা হতে পারে। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আধিকারিকেরা এইচবিআর লেআউটের ‘সপ্ত বাজার’ নামে একটি দোকানে অভিযান চালান। সেখান থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ কাজু বিস্কুট, রাগির আটা, চিকেন প্যাটি, পনির, কুকিজ়, বাদাম, ডিম এবং ময়দা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই ধরনের কাজকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আমরা আইন বিভাগ এবং কেন্দ্র সরকারকে চিঠি লিখছি।” তাঁর অভিযোগ, “বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকেরা কেবল জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এটি একটি অপরাধমূলক কাজ। আমরা এই সংক্রান্ত আইন তৈরি করব। আমরা সাধারণ মানুষকেও আরও বেশি করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি, যাতে এই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন রোধ করা যায়।”
প্রসঙ্গত, টানা অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে বাসি, ভেজাল খাবারের সন্ধান মিলছে। কলকাতা পুরসভা এখনও পর্যন্ত ৪০টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে । খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক ভাবে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়েছেন পুরসভার আধিকারিকেরা। অভিযান চলেছে বিভিন্ন রেস্তরাঁয়, এমনকি বিভিন্ন নামী শপিং মলের ফুড কোর্টেও। হেঁশেলে ঢুকে সেখানকার ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মজুত খাবারগুলির গুনমান ঠিকঠাক রয়েছে কি না, সেগুলি সঠিক পদ্ধতিতে মজুত করা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথায় পচা-বাসি মাংস, কোথাও ছত্রাক ধরা মিষ্টি, কোথাও আবার নিম্নমানের মশলায়, নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে বলে পুরসভার একটি সূত্র জানাচ্ছে। বেশ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ এবং ফুড কোর্টে এমন অনিয়মের প্রমাণ মেলায় তারাও রয়েছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়।