পঞ্জাবের অমৃতসরে কর্তব্যরত অবস্থায় থাকা পুলিশের এক অ্যাসিসট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টরকে (এএসআই) গুলি করে হত্যা করা হল শুক্রবার। নিহত ওই এএসআইয়ের নাম হরজিৎ সিংহ। অমৃতসরের হাকিমা গেটের কাছে পাহারায় ছিলেন তিনি। ভোরবেলায় কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী আসে। হরজিৎকে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এক পুলিশকর্মীকে হত্যার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা।
হামলার কিছু পরেই এই ঘটনার দায় নেয় তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান জঙ্গি সংগঠন। যদিও পঞ্জাব পুলিশ দাবি করেছে, এটি কোনও জঙ্গি হামলা নয়। তবে এই হামলায় কারা জড়িত তা জানতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, হরজিৎকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এএসআইয়ের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। পাশাপাশি পুলিশকর্মীর পরিবারকে সব রকম ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সাহায্য ছাড়াও এএসআইয়ের পরিবারকে বিমার এক কোটি টাকা দেবে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক। এ কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এএসআইয়ের হত্যার রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। বিজেপি এবং অকালি দল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির এক প্রবীণ নেতা তরুণ চুঘ এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, পুলিশেরাও এ রাজ্যে সুরক্ষিত নয়। ২২টি থানায় গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের হাতেই রাজ্যের নিরাপত্তার ভার, তাঁরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছেন।
রাজ্যের আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এই ধরনের ঘটনা বলে তাঁর অভিযোগ। অকালি দলের নেতা বিক্রম সিংহ মজীঠিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে তিন জন এএসআই খুন হয়েছেন। গত ৩০ অগস্ট অমৃতসরে আততায়ীদের হামলায় নিহত হন এএসআই পবন কুমার। ১১ সেপ্টেম্বর অমৃতসরের ভল্লা পিন্ড এলাকায় এক এএসআইকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তার এক সপ্তাহের মধ্যে আবার গুলি চলার ঘটনা ঘটল।