E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বেরোল ছররা, আব্দুলরা তাকিয়ে বাংলাদেশের আদালতের দিকেই

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ইসমাইল ও আব্দুলের শরীরে অস্ত্রোপচার করে প্রচুর ছররা গুলি বেরিয়েছে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়, রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২০
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অনুপ্রবেশের দায়ে বাংলাদেশে এক বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অসমের দুই গ্রামবাসী। এই মুহূর্তে তাঁদের একমাত্র ভরসা সে দেশের আদালত। বাংলাদেশের আদালত মনে করলে তবেই হয়তো তাঁদের জেল হাজতের সাজা মকুব হয়ে দেশে ফেরার সুযোগ থাকবে। এমনটাই জানাচ্ছে বাংলাদেশের রংপুর পুলিশ। অথচ অসমের যে জেলায় ওই দু’জনের বাস, সেই দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার এসপি রেণুকুন্তলা শীতল কুমার দাবি করছেন, তাঁরা এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও কিছুই জানেন না!

গত রবিবার অসমের দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার সুখচরের ইসমাইল হোসেন এবং আব্দুল আলিম মণ্ডল নামে দুই গ্রামবাসীকে বাংলাদেশের রংপুরে একটি চর থেকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছে। সেখানকার পুলিশের দাবি, ইসমাইল ও আব্দুল জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশি সন্দেহে বিএসএফ তাঁদের উপরে ছররা গুলি ও ককটেল বোমা ছুড়ে ঘায়েল করে বাংলাদেশের ভিতরের চরে ফেলে গিয়েছিল।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ইসমাইল ও আব্দুলের শরীরে অস্ত্রোপচার করে প্রচুর ছররা গুলি বেরিয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনও খাবার খেতে পারছেন না। স্যালাইন চলছে। তাঁরা সুস্থ হলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে দুই ভারতীয়ের পরিচয়পত্র তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে আনানো হয়েছে। ইসমাইল ও আব্দুল যে ভারতীয়, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

রংপুরের পুলিশ জানাচ্ছে, সাধারণ নিয়মে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশ আইনে দুই ভারতীয়ের সর্বোচ্চ এক বছরের জেল হতে পারে। তবে সনাতন বলেন, ‘‘আমরা আদালতে সব তথ্য পেশ করব। তার পরে যদি আদালত মনে করে, তবে দুই ভারতীয়কে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিতে পারে।’’ ইসমাইল ও আব্দুলের বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়রা হাসপাতালে পৌঁছে তাঁদের খবর নিচ্ছেন ও সে দেশে আইনি লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছেন।

আব্দুলের ভাই হালিম মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা সুখচর থানায় সব জানিয়েছি। থানা আশ্বাস দিয়েছিল, ফ্ল্যাগ মিটিং করে ফেরত আনবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। জেলাশাসকের সঙ্গেও আমরা দেখা করতে পারিনি।’’ এসপি শীতল কুমার যদিও বলেন, “এ পর্যন্ত দুই পরিবারের তরফে আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিক ভাবে কোনও অভিযোগই জমা পড়েনি।”

এমনকি পরিবারের তরফে জেলাশাসকের দফতরে সাহায্য চাওয়ার কথা বলা হলেও জেলাশাসক পরীক্ষিৎ থৌডামের দফতর জানায়, এ ব্যাপারে কেউ সাহায্য চাইতে আসেননি। কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও জমা পড়েনি। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় ঘটনার পরেও পরিবারের তরফে কেন থানায় ন্যূনতম নিখোঁজ ডায়েরিও করা হল না? এ প্রশ্নের সদুত্তর দুই পরিবারের তরফেও মেলেনি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Assam

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy