Advertisement
E-Paper

মাদকবিরোধী সমাজসৈনিকের হত্যাকারী পঞ্জাবের সেই ওষুধ বিক্রেতা গ্রেফতার রাজস্থানে! খুনের নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা?

একজন সমাজসৈনিক হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন পারবিন্দর ঝোটা। মঙ্গলবার তাঁকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে মানসার ওষুধ বিক্রেতা অশ্বনী কুমারের বিরুদ্ধে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০২
পারবিন্দর ঝোটা। ছবি: সংগৃহীত।

পারবিন্দর ঝোটা। ছবি: সংগৃহীত।

পঞ্জাবের সমাজসৈনিক পরবিন্দর ঝোটার হত্যাকারী সেই ওষুধ বিক্রেতাকে রাজস্থানের সালাসার থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত ওষুধ বিক্রেতা অশ্বনী কুমার। তাঁর খোঁজে বেশ কয়েকটি দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয় পরবিন্দরের হত্যাকারীকে।

রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ঝোটা। শুধু তা-ই নয়, এক জন সমাজসৈনিক হিসাবে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে মানসার ওষুধ বিক্রেতা অশ্বনীর বিরুদ্ধে। ঝোটার মায়ের দাবি, ‘‘ছেলে আমাকে বার বারই বলত, মা ওরা আমাকে খুন করতে পারে। বাড়ি থেকে বার হওয়ার আগে আমার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে। বলেছিল, খাবার তৈরি রেখো। এসে খাব।’’

ঘটনাচক্রে, যে ওষুধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে ঝোটাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। মঙ্গলবার এক ব্যক্তিকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন ঝোটা। তার পর বচসার মাঝেই পিস্তল বার করে ঝোটাকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি চালান ওষুধ বিক্রেতা। ঝোটার মৃত্যুর পর স্থানীয়েরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দোকান ভাঙচুর করা হয়। ঝোটার হত্যাকারীকে গ্রেফতারির দাবি জোরালো হতে শুরু করে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঝোটার হত্যাকারীকে গ্রেফতারির দাবি জোরালো হতেই কয়েকটি দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। রাজস্থানে অভিযুক্তের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ। তার পরই বুধবার সকালে সালাসার থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে এটি পুরনো শত্রুতার জের। তবে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ওষুধ বিক্রেতার সঙ্গে আগেও ঝোটার ঝামেলা হয়েছিল মাদক বিক্রির ঘটনায়। সূত্রপাত ২০২৩ সাল। যে সব ওষুধের দোকানে মাদক এবং নেশার সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠছিল, সেগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন ঝোটা। ওষুধের দোকানগুলির এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তার মধ্যে একটি ছিল অশ্বনী কুমারের দোকান।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওষুধের দোকানে নেশার সামগ্রী বিক্রি করার অভিযোগে অশ্বনীকে হেনস্থা করে জুতোর মালা পরিয়েছিলেন ঝোটা। এই ঘটনায় ঝোটার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। দু’মাস জেলও খেটেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেও ঝোটা দমেননি। মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। যেখানে যেখানে এই ধরনের কাজ দেখেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর মায়ের দাবি, ঝোটা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করায় তাঁর শত্রুর সংখ্যা বাড়ছিল। অনেকেই তাঁর এই কাজকে ভাল চোখে দেখছিলেন না। ঝোটাও বাড়িতে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি। ঝোটার গ্রেফতারিতে বহু সমাজসৈনিক এবং কৃষক সংগঠন প্রতিবাদে নামেন। ঝোটাকে জেলমুক্তির দাবি জানান। রাজ্য সরকার অবশেষে ঝোটাকে মুক্তি দেয়। সেই পুরনো শত্রুতার জেরেই কি ঝোটাকে খুন হতে হল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Punjab

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy