ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু রাজস্থানের কোটা জেলায়। গুরুতর জখম প্রায় ১০ জন। শনিবার সকালে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।
রাজস্থান পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজস্থানের খাটুশ্যাম মন্দিরের উদ্দেশে যাচ্ছিল পুণ্যার্থীবাহী একটি টেম্পো ট্রাভেলার। আচমকা সেটি ডিভাইডার ভেঙে রাস্তা ছাড়িয়ে প্রায় ২০ ফুট নীচে একটি পয়ঃপ্রণালীতে পড়ে।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিতে মোট ২০ জন যাত্রী ছিলেন। সকলেই মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার বাসিন্দা। মধ্যপ্রদেশের রিংগাসে খাটুশ্যাম মন্দির দর্শন করতে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে বেতুল থেকে ছাড়়ে গাড়িটি। শনিবার সকাল ৭টা নাগাদ কারাড়িয়া টোল প্লাজ়া অতিক্রম করে সুলতানপুরের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। ফলে গাড়িটি ডিভাইডার ভেঙে একটি নালায় পড়ে। তার আগে একটি দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে। অকুস্থলেই চারজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান আরও তিন যাত্রী। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটির সামনের অংশ একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমোচ্ছিলেন। পুলিশের অনুমান, চালকেরও হয়তো ঘুমে চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর গ্রামবাসী এবং পথচারীরা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। খানিক পরে পুলিশ উপস্থিত হয়। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)-এর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। জরুরিকালীন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ব্যবহার করা হয়েছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটিকে তুলে আনতে এনএইচএআই-এর একটি ক্রেনও ব্যবহার করা হয়।
রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘কোটা জেলার সিমলীয়া থানা এলাকায় ভোপাল থেকে খাটুশ্যামজীর উদ্দেশে যাওয়া একটি মিনিবাসের সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েক জন প্রাণ হারানোর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ঈশ্বর যেন তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’