তীব্র সমালোচনার মুখে পিছু হটল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই)। বৃহস্পতিবার বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ় অ্যান্ড রিসার্চ (নালসার)-এর ২০২৬ সালের কোনও স্নাতক পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে সরব হয় ককরোচ জনতা পার্টি। পরে বিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বদল করা হচ্ছে। স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে বাধা নেই।
বিতর্কের সূত্রপাত নালসার-এর ২০২৬ সালের স্নাতকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করার পর থেকে। গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে পাঠানো ই-মেলে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের আপত্তির কথা জানান। প্রধান বিচারপতিকে ডাকার বিরুদ্ধে এই প্রচারাভিযানে কারা ছিলেন, উপাচার্যের কাছে জানতে চান বিসিআই চেয়ারম্যান। এর পরেই বিসিআই তার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। পরে অবশ্য অবস্থান বদল করে জানানো হয়, বেশির ভাগ পড়ুয়াই নির্দোষ বলে জানা গিয়েছে। কিছু বহিরাগত শক্তি এবং শিক্ষকদের একাংশই প্রচার অভিযানের পিছনে ছিলেন। উপাচার্যের তদন্ত রিপোর্ট এলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
বিসিআইয়ের নিষেধাজ্ঞা সামনে আসার পরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স হ্যান্ডলে হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, ‘‘সমস্ত আইনি আরশোলা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, কী হবে?’’ মনন কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘মনন রাজ্যসভার সাংসদ পদ পাওয়ার ঋণ শোধ করছেন!’’ সিজেপির আর এক নেতা সৌরভ দাসও বিসিআই-এর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই নির্দেশকে ‘চরম বেআইনি’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মনন কুমারকে উদ্দেশ করে সৌরভ লেখেন, ‘‘মিস্টার মনন মিশ্র, ছাত্রছাত্রীদের থেকে দূরে থাকুন!’’ আপত্তি ওঠে বার কাউন্সিলের মধ্য থেকেও। আইনজীবী এন মনোজ কুমার চেয়ারম্যানকে চিঠি লিখে বলেন, ‘‘এটা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। এ ভাবে স্নাতকদের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যায় না।’’