নামের বানানে অসঙ্গতি। খবর ছড়িয়েছে, সেই কারণে কর্নাটকের এসআইআর-শুনানিতে তলব করা হয়েছে ভারতরত্ন প্রাপক বিজ্ঞানী সিএনআর রাওকে। ৯২ বছর বয়সি এই বিজ্ঞানীকে বেঙ্গালুরু সংলগ্ন মল্লেশ্বরমে ডেকে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। যদিও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক মহেশ্বর রাও জানাচ্ছেন, রাও-কে কোনও নোটিস পাঠানো হয়নি।
ইন্ডিয়া টুডে অনুযায়ী, কমিশনের বক্তব্য, ভারতরত্ন সিএন রাও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মল্লেশ্বরম বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৯ নম্বর পার্টের ৪৩১ নম্বর ক্রমিকে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন। সেই সময় তাঁর নাম 'রাম' হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। বর্তমানে, তিনি মল্লেশ্বরম বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৯ নম্বর পার্টের ১৮৭ নম্বর ক্রমিকে 'প্রফ সিএন রাও এম' নামে ভোটার হিসেবে রেজিস্টার্ড আছেন। সেই অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রথমে খবর ছড়ায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বিজ্ঞানীর নাম ছিল প্রফ (অধ্যাপক) সিএনআর রাও। কিন্তু বর্তমান ভোটার তালিকায় প্রফ-এ একটি অতিরিক্ত এফ বর্ণ রয়েছে। এই ধন্দ কাটাতেই রাওকে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয় বলে খবর ছড়ায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশে ভারতরত্ন অধ্যাপক সি. এন. রাও-কে একটি নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এআইআর-এর অংশ হিসেবে রাজ্যের নোডাল অফিসার এবং বেঙ্গালুরু পশ্চিম সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার যৌথভাবে অধ্যাপক সি. এন. রাও-এর বাড়িতে যান। তাঁর কাছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেন। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলিও যথাযথ ভাবে পূরণ করা ছিল বলে জানান জেলা নির্বাচনী আধিকারিক।
অধ্যাপক রাও রসায়নবিদ্যার জগতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। নোবেল ছাড়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পুরস্কার বা সম্মানেই ভূষিত হয়েছেন তিনি। পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণে সম্মানিত হওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন।
ভারতের বিজ্ঞান সংক্রান্ত সরকারি নীতি প্রণয়ণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে রাওয়ের। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধী, রাজীব গাঁধী, আইকে গুজরাল এবং মনমোহন সিংহের আমলে কেন্দ্রের বিজ্ঞানবিষয়ক পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য ছিলেন রাও।