Advertisement
E-Paper

কোথাও ‘অস্তিত্বহীন’ শিক্ষক! কারও বেতন প্রাপ্যের ১০ গুণ! বিহারে শিক্ষা দফতরের পোর্টালে ‘কেলেঙ্কারি’ মেনে নিলেন মন্ত্রীও

শিক্ষকদের বেতন পোর্টালে কারচুপির যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা মেনে নিয়েছেন বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিহারে শিক্ষা দফতরের পোর্টালে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এল অভ্যন্তরীণ অডিটে। শিক্ষকদের বেতন ব্যবস্থার হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এইচআরএমএস) বিভিন্ন ধরনের ‘কারচুপি’ ধরা পড়েছে। কোথাও এমন শিক্ষকের নামে টাকা তোলা হয়েছে, যাঁর কোনও অস্তিত্বই নেই। কোথাও আবার প্রাপ্য বেতনের চেয়ে ৮-১০ গুণ বর্ধিত বেতন ঢুকেছে শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে। বিনা অনুমোদনে এইচআরএমএস পোর্টাল ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।

বিহারের পটনা, নওয়াদা এবং ভাগলপুরে— অন্তত এই তিনটি ক্ষেত্রে এই ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে সরকারের অভ্যন্তরীণ অডিটে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। লগইন তথ্যের অপব্যবহার করে বেতনের নথিপত্রে এই সব কারচুপি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় পদক্ষেপও করা হয়েছে। নিলম্বিত করা হয়েছে অন্তত চার জন আধিকারিককে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এ সব কারচুপির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।

তিনটি ক্ষেত্রে যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা মেনে নিয়েছেন বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারিও। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি জানান, যে তিনটি ঘটনার কথা জানা গিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। বিহারের ৩৮টি জেলাতেই অভ্যন্তরীণ অডিট চালাচ্ছে সরকার। এইচআরএমএস ব্যবস্থায় যাতে কোনও কারচুপির সুযোগ না থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। “দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ করব,” বলেন শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ।

শিক্ষা দফতরের পোর্টালে এই অনিয়মের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে নওয়াদা জেলায়। সেখানকার জেলা শিক্ষা আধিকারিক নওয়াদা থানায় একটি অভিযোগ জানান। পুলিশকে তিনি জানান, জেলার রাজৌলি এলাকায় এক প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক প্রাপ্যের চেয়ে অনেক বেশি বেতন পাচ্ছেন। অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিলে ওই শিক্ষকের ৪৬ হাজার ৭৭২ টাকা বেতন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পান ৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৭২ টাকা। পরের মাসেও তাঁর ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতন ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ওই স্কুলশিক্ষকের পাশাপাশি দফতরের দুই কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানান তিনি। ওই দুই কর্মীর একজন বেতন নথি তৈরি এবং অপর জন তা যাচাই করার দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, ওই দুই কর্মীই বিনা অনুমোদনে ‘অন্যান্য ভাতা’ হিসেবে গত বছরের এপ্রিলে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার ২২২ টাকা জুড়ে দিয়েছিলেন শিক্ষকের বেতন নথিতে। একই কাজ করা হয়েছিল তার পরের মাসেও। জেলা শিক্ষা আধিকারিকের, বিনা অনুমোদনে সব মিলিয়ে ওই শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৫০ টাকা ঢুকেছিল।

নওয়াদার ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এফআইআর রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে পটনাতেও জেলা শিক্ষা আধিকারিক পোর্টালে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর লগইন আইডি ব্যবহার করে পোর্টালে অনুমোদনহীন অঙ্ক যোগ করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ, ওই জেলা শিক্ষা আধিকারিকের আইডি ব্যবহার করে ৭৬ লক্ষ ৭১ কোটি ৯৮৩ টাকার অনিময় করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কর্মীকে নিলম্বিতও করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভাগলপুরেও বেতন পোর্টালে কারচুপির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে জেলাস্তরের এক আধিকারিক পোর্টাল দিয়ে এমন এক ‘শিক্ষকের’ নামে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন, যাঁর আসলে কোনও অস্তিত্বই ছিল না। এ নিয়ে গত ৮ অক্টোবর ভাগলপুরের জোগসার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনার পরের দিনই অভিযুক্ত ওই আধিকারিক শশীচন্দন চৌধুরী গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তিনি কত টাকা সরিয়েছিলেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেননি তদন্তকারীরা।

Bihar Government Teachers

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy