ভারী এবং টানা বৃষ্টির কারণে গঙ্গা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। ফলে বিহারের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্কটের মোকাবিলায় ফরাক্কা ব্যারেজের সমস্ত গেট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গকে অনুরোধ জানাল বিহার সরকার।
কেন্দ্রীয় জল কমিশন রবিবার জানিয়েছিল, বিহারের রাজধানী পটনার সমস্ত প্রধান ঘাটে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার উপরে উঠে গিয়েছে। পটনার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাঁকে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সম্রাট সোমবার বলেন, ‘‘ফরাক্কা ব্যারেজের সমস্ত গেট খুলে দিলে গঙ্গার জলপ্রবাহ গতিমুক্ত হতে পারে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এখনও চুক্তির নবীকরণ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। ঢাকাকে নয়াদিল্লির খোলা বার্তা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত দিল্লি এলেই এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পাবে। তবে এনডিএ-র শরিক জেডিইউ এই চুক্তির বিরোধিতাকে উচ্চগ্রামে নিয়ে যাচ্ছে। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দলের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে শুষ্ক মরসুমে বিহার পর্যাপ্ত জল পায় না। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষি, পানীয় জল ও শিল্পের জন্য গঙ্গার জলের ভাগ কমে যায়। ফরাক্কায় জল ধরে রাখার ফলে হুগলি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ। অন্য দিকে, বর্ষার মসসুমে ফরাক্কা জল না ছাড়ায় বিহারের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয় বলে জেডিইউ নেতৃত্বের অভিযোগ।