ডিএমকে এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি-কে এনডিএ-র ছাতার তলায় নিয়ে এসে মোদী সরকার কি ফের লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর (সংবিধান সংশোধনী) বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে? কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ফের এই জল্পনা উস্কে দিয়েছেন।
বাদল অধিবেশনের শেষে নিয়মমাফিক অনির্দিষ্ট কালের জন্য অধিবেশন মুলতুবির ঘোষণা হয়েছিল। তার পরে ১৪ দিন কেটে গেলেও অধিবেশনে চূড়ান্ত ইতি টানার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। রিজিজু বলেছেন, যখন সংসদের অধিবেশনে ইতি টানা হয়নি, তখন আবার অধিবেশন ডাকা হতে পারে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, কংগ্রেস থেকে দূরত্ব তৈরির পরে ডিএমকে দলকে মোদী সরকার এনডিএ-তে টানতে চাইছে। তাদের কেন্দ্রে মন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শরদ পওয়ারের এনসিপি-কে এনডিএ-তে টানতে পওয়ার-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেকেও মন্ত্রী করতে তৈরি বিজেপি। এই দুই দলকে পাশে টেনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হলে বিল পাশ করানোর চেষ্টা হবে। তার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নিয়ে উত্তর না দিলেও রিজিজু বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের দু’রকম ব্যাখ্যাই হতে পারে।
এই মন্তব্যের পরেই কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে বলেছেন, কংগ্রেস লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ফের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এ নিয়ে সব রাজ্য সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যথেষ্ট সময় নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬-তে নিয়ে গিয়ে, সমস্ত রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়িয়ে তার পরে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার জন্য মোদী সরকার এপ্রিল মাসে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিল পাশ হয়নি। খড়্গে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের অবস্থান হল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টিই রেখে দিয়ে তার তিন ভাগের এক ভাগ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হোক।