‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে আশাতীত সাড়া পাচ্ছেন রাহুল গাঁধী। তাই আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রাহুলের আর এক দফা ওই কর্মসূচির আগে জোড়া আক্রমণ শানানোর পরিকল্পনা নিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। রাহুলের অনুষ্ঠানের দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ইন্দোরেই থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। কথা বলবেন যুব সমাজের সঙ্গে। ইন্দোরের পরে তাঁর উজ্জয়িনীতেও যাওয়ার কথা রয়েছে। ওই উজ্জয়নীতেই ১৮ সেপ্টেম্বর ‘যুব ধর্ম সংসদ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যুবকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেবেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। এই জোড়া পদক্ষেপকে রাহুলের অনুষ্ঠানের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে বিজেপির সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক শিবির।
নিটের প্রশ্ন ফাঁস, যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে বিজেপি সরকারের অস্বস্তি ছিলই। বিজেপিকে কোণঠাসা করতে দেশ জুড়ে পড়ুয়াদের নিয়ে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন রাহুল। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন শহরের পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতা করছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা শুনছেন পড়ুয়াদের সমস্যা, সরকারের ‘ব্যর্থতা’ নিয়েও সরব হচ্ছেন। কংগ্রেসের দাবি, ওই সব কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের বিপুল উপস্থিতিই রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে বিজেপিকে। সম্প্রতি বরোদায় খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ‘মিথ্যা কি গুঞ্জ’, ‘নারাজ ফুফা’ বলে আক্রমণ শানাতে হয়েছিল রাহুলের উদ্দেশে। র্যাম্প-যুক্ত মঞ্চে হেঁটে, তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ওই সভা করেছিলেন মোদী। এ বার ইন্দোরে রাহুলের ১৯ তারিখের কর্মসূচি থেকে নজর ঘোরাতে ইন্দোরের পাশাপাশি উজ্জয়নীতেও ছাত্র-যুবদের নিয়ে শাসক শিবির বড় মাপের অনুষ্ঠান করছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। বিজেপি সূত্রের মতে, ওই দিন ইন্দোরে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে আলাপচারিতা করবেন নিতিন নবীন। পরে উজ্জয়নী গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে শিপ্রা নদীর ঘাটে প্রায় আড়াই লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিজেপি সভাপতি। তার পরের দিন উজ্জয়নীতে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতের ‘যুব ধর্ম সংসদ’ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে মূলত অংশ নেবেন স্থানীয় যুবকেরা। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতাও করবেন ভাগবত।
বিজেপির তরফে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, তাদের কর্মসূচিও পূর্বপরিকল্পিত। রাহুলের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরপর দু’দিন অনুষ্ঠান রাখার যুক্তি মানতে চাননি মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি হেমন্ত খন্ডেলওয়াল। তাঁর কথায়, ‘‘দলের সেবা সঙ্কল্প অভিযানের অঙ্গ হিসেবেই নিতিন নবীন মধ্যপ্রদেশে আসছেন। তিনি ইন্দোরের কর্মসূচির পরে মন্দসৌরে গিয়ে চিতাদের জঙ্গলে ছাড়বেন এবং শেষে শিপ্রা নদীতে প্রদীপ জ্বালানোর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। গোটাটাই আগে থেকে ঠিক করা হয়েছে।’’