সংসদের উচ্চকক্ষে আবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরতে পারে শাসকদলের। প্রায় চার দশকের ব্যবধানে। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার তিনটি আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে জয়ী হলে বিজেপির আসনসংখ্যা বেড়ে ১১৭ হবে, যা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে মাত্র ছ’টি কম। এটিই হবে রাজ্যসভায় বিজেপির সর্বকালের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিরোধীরা প্রার্থী না দেওয়ায় বিজেপি মনোনীত সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেবের রাজ্যসভায় পুনর্নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। ২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১২৩টি আসন প্রয়োজন। নতুন তিনটি আসনে জিতলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র মোট আসনসংখ্যা হবে ১৫২।
প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য লোকসভার মতোই রাজ্যসভাতেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অর্থাৎ, প্রয়োজন ১৬৪ সাংসদের সমর্থন। পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসন দখলের ফলে সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য আর ১২ সাংসদের প্রয়োজন হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের। প্রসঙ্গত, সংসদের উচ্চকক্ষে শেষ বার কোনও একক রাজনৈতিক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে— তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। রাঘব চড্ঢার নেতৃত্বে সাত জন আপ সাংসদের বিজেপিতে যোগদান। সদ্যসমাপ্ত রাজ্যসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও ঝাড়খণ্ডে ক্রস ভোটিং-এর মাধ্যমে জয় এবং পশ্চিমবঙ্গে তিন তৃণমূল সাংসদের পদত্যাগ ও দলত্যাগে এ বার চার দশকের পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তৈরি করল ‘পদ্ম’ শিবির।