কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য মন্ত্রকের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার? বৈঠকে ‘ককরোচ জনতা দল’ (সিজেপি)-র দুই প্রতিনিধির কাছে কি তেমনই কোনও প্রস্তাব দিয়েছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ? যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিল বিজেপি। তাদের দাবি, ধর্মেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব বদলের প্রস্তাব সংক্রান্ত যাবতীয় দাবি ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক। কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি-র বৈঠকে এমন কোনও কথাই হয়নি।
নিট আন্দোলনের মাঝে তিন বার সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র। প্রথম বৈঠকে নড্ডা বসেছিলেন সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে। দ্বিতীয় বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরেক মন্ত্রী জিতেন্দ্র। আর তৃতীয় বৈঠকেও এই চার জনই ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, প্রথম দুই বৈঠকের কোনও একটিতে ধর্মেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় নাকি সৌরভদের! যদিও সিজেপি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল তারা।
সেই সব প্রতিবেদনে যা দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলে জানালেন বিজেপি সাংসদ তথা মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর মন্ত্রক বদল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, কেন্দ্রীয় সরকার এমন কোনও প্রস্তাবই দেয়নি। বৈঠকে এই সব কিছু নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি।’’ সম্বিতের আরও সংযোজন, ‘‘এই সব দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এই খবরের কোনও ভিত্তি নেই। কোনও সত্যতা নেই।’’
আরও পড়ুন:
নিট আন্দোলনের চাপে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র। তবে তিনি নিজে বা বিজেপি নেতৃত্বের কেউই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ‘চাপের’ কথা মানতে চাইছেন না। ইস্তফা দেওয়ার পরে ধর্মেন্দ্র তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, ‘‘দেশের যুবশক্তি যাতে সংশয়ের জালে জড়িয়ে না-পড়ে সে ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’’ তাঁর অভিযোগ ছিল, যন্তর মন্তর এবং গোটা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি তার সুযোগ নিচ্ছিল। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘দেশের ঐক্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, এক জন পড়ুয়াও যাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে, আমাদের সন্তানেরা যাতে পড়াশোনা, নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করতে পারে—সেই কারণে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পেশ করেছি।’’ পরে বিজেপি নেতৃত্বও একই দাবি করেছিলেন।