পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ তো ছিলই, বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্লেষণ পূর্বাঞ্চল এবং অওয়ধ এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনের পরে দলের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যার ফলে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে গেরুয়া শিবির। সমীক্ষা বলছে, ২০২২ সালে জেতা প্রায় ১৯ হাজারের কাছাকাছি বুথে বিজেপি লোকসভায় পিছিয়ে গিয়েছিল। আপাতত ওই বুথগুলিকে চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে এক-একটি বুথ ধরে এগোনোর পরিকল্পনা নিয়েছে দল।
পাঁচ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও, লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রাজ্যের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি জেতে ৩৩টি আসনে, সেখানে এসপি ও কংগ্রেস জেতে যথাক্রমে ৩৭টি ও ৬টি আসনে। যার অর্থ গত লোকসভায় উত্তরপ্রদেশে অর্ধেকের বেশি আসন জেতে বিরোধী জোট।
ওই রাজ্যে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়েকে। চলতি সপ্তাহে প্রথম বার উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিলেন তিনি। সূত্রের মতে, সমীক্ষার পর স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে দলের বার্তা, দুর্বল বুথগুলি চিহ্নিত করে দুর্বলতার কারণ খুঁজে বার করতে হবে। পরবর্তী ধাপে বুথের সংগঠন মজবুত করে, স্থানীয় সমস্যা কাটিয়ে উঠে বুথটি পুনরুদ্ধার করতে হবে। লোকসভার ফলাফলে দেখা গিয়েছে, শহর এলাকায় মোটের উপর ভাল করলেও, গ্রামীণ এলাকায় অ-যাদব ও অ-জাটভ ভোটারেরা সরে গিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যাদব ভোটের সঙ্গে জুড়ে যায় অ-যাদব ও অ-জাটভ ভোট। ফলে হালে পানি পাননি বিজেপির প্রার্থীরা। যার ফলে রাম মন্দির যে ফৈজাবাদ কেন্দ্রের অন্তর্গত সেই কেন্দ্রেও এসপির কাছে হারতে হয়েছিল বিজেপিকে।
দলের বিশ্লেষণ, অতীতে অওয়ধ ও পূর্বাঞ্চলে ভাল ফল বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছে। কিন্তু লোকসভায় ওই দু’টি এলাকাতেই খারাপ ফল করেছে দল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে পূর্বাঞ্চলের ১০২টি বিধানসভার মধ্যে ৫৩টিতে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু লোকসভায় মাত্র ৩৬টি আসনে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। ফলে পূর্বাঞ্চলের প্রয়াগরাজ (গ্রামীণ), চান্দৌলি, জৌনপুর, গাজিপুরের মতো আসনে বুথ স্তরের ভাঙন রোখাই বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ। অওয়ধ এলাকায় গত বিধানসভায় ১৫৪টির মধ্যে ১০১টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। কিন্ত লোকসভায় সেই সংখ্যা অর্ধেকে গিয়ে দাঁড়ায়। সুলতানপুর, ফৈজাবাদ, অমেঠীর মতো কেন্দ্রে পিছিয়ে ছিলেন বিজেপি নেতারা। বুন্দেলখণ্ড এলাকায় লোকসভায় খারাপ ফলও চিন্তায় রেখেছে বিজেপিকে।
এ মাসের ১৬ তারিখে ফের উত্তরপ্রদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে তাওড়ের। সূত্রের মতে, হেরে যাওয়া বুথগুলিতে বুথ কমিটি কী পর্যায়ে রয়েছে, বিপক্ষের কাছে পিছিয়ে থাকার কারণ নিয়ে রাজ্য ঘুরে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।