E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

যন্তর মন্তরে টনক নড়েছে, বিজেপির আত্মসমীক্ষা

সপ্তাহ পাঁচেক আগে সিজেপি যখন আন্দোলন শুরু করে, তখন বিজেপির কোনও নেতা-ই ভাবেননি যে, ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হবে। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৫

—প্রতীকী চিত্র।

নিটের প্রশ্ন ফাঁস-কাণ্ডের জেরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন এবং জনমতের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদ খোয়াতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা দলের কাছে শিক্ষণীয় বলেই মত বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের।

সপ্তাহ পাঁচেক আগে সিজেপি যখন আন্দোলন শুরু করে, তখন বিজেপির কোনও নেতা-ই ভাবেননি যে, ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হবে। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও। এই জনমতকে এ যাবৎ পাত্তাই দিতে দেখা যায়নি বিজেপিকে। এখন ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে দল সাংগঠনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন গণআন্দোলনকে হালকা ভাবে নেওয়া হবে না। কারণ সিজেপির মতো ভুঁইফোড় দলের বিক্ষোভ প্রমাণ করে দিয়েছে, গণআন্দোলন হঠাৎ করে গতি পেয়ে সরকারকে কোণঠাসা করে দিতে পারে। তাই আমজনতার সমস্যাকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে তা দ্রুত সমাধানের উপরে জোর দিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘সিজেপি আন্দোলন স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের মানুষের একাংশের ভরসা উঠে গিয়েছে সরকারের উপর থেকে। লোকসভার ভোটের আগে বিষয়টি চিন্তার। সিজেপি-র মূল চালিকাশক্তি ছিল যুব সমাজ। জেন-জ়ি যদি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তা হলে সরকার ধরে রাখা কঠিন। তাই যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। এই আন্দোলনেসেটা স্পষ্ট।’’

বিজেপি নেতৃত্ব আরও মনে করছেন, ধারাবাহিক জয়ে দলীয় কর্মীরা যাতে আত্মতুষ্ট না হন, সে দিকেও নজর দেওয়া দরকার। দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। কারণ, যে কোনও দুর্নীতির অভিযোগে ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্দোলন শুরু হতে পারে। বিশেষ করে যে ভাবে পেট্রপণ্যে বাধ্যতামূলক ভাবে ইথানল মিশিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর ছেলেকে ফায়দা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাতে যথেষ্ট চিন্তিত দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রশাসনিক স্তরেও সংস্কারমুখী পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের মন্ত্রকের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। প্রত্যাশা মতো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁকে সরতেও হতে পারে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রের ভূমিকাকেও আতশকাচের তলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বহু প্রকল্প রূপায়ণে দেরি হয়। সেই জটিলতা কাটাতে জোর দিচ্ছে বিজেপি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
BJP Gen Z

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy