জাতীয় গান বন্দে মাতরমের মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না— শনিবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্দে মাতরম্ প্রসঙ্গে মহাত্মা গাঁধীর চিন্তাধারা এবং তাঁর বক্তব্যও দেশ জুড়ে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির। পরে বিকেলে বিজেপির দফতরে গিয়ে পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক সারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
সম্প্রতি কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে স্থির হয়েছে, দলীয় কর্মসূচিতে তারা বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই গাইবে। তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মহাত্মা গাঁধীর প্রসঙ্গ টানে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে মহাত্মা গাঁধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই পটেল-সহ একাধিক শীর্ষনেতা বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ বার কংগ্রেসকে জবাব দিতে সেই মহাত্মা গাঁধীর বক্তব্যই প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। পদ্মশিবির তাদের প্রস্তাবে জানিয়েছে, মহাত্মা গাঁধীর বক্তব্য ছিল, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভীষণ ভাবে জাতীয়বাদী ভাবনায় উদ্বুদ্ধ এক স্লোগান বন্দে মাতরম্। তাঁর এই বক্তব্যকে দেশ জুড়ে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে জাতীয় গানের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের মর্যাদা রক্ষার বিষয়েও প্রস্তাব পাস হয়েছে।
কংগ্রেসের দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় গানের প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুখ অমিত শাহ। তোষণের রাজনীতি করার জন্যই কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এ বার বিজেপির জাতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবেও ‘তোষণের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হল। পদ্মশিবির জানিয়েছে, রাজনৈতিক স্বার্থে বা তোষণের জন্য বন্দে মাতরমের মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস বরদাস্ত করা হবে না। এ অবস্থায় জাতীয় গানের ইতিহাস এবং গৌরবময় ঐতিহ্য দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
কয়েক দিন আগেই নতুন করে সাজানো হয়েছে নিতিনের ‘টিম’। সদ্য ঢেলে সাজানো ওই টিম নিয়ে শনিবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিলেন নিতিন। ওই বৈঠকেই জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দশ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বৈঠক শেষে ১০ দফা প্রস্তাবের কথা সমাজমাধ্যমে উল্লেখ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি লেখেন, “এটি (বন্দে মাতরম্) শুধু কোনও একটি রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। এটি দেশের সম্মান এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা অসংখ্য দেশপ্রেমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।”
নিতিন আরও লেখেন, “বন্দে মাতরম্ শব্দটি একসময় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা একটি সাম্রাজ্যকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশেরা এটি দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কারণ এটি প্রতিরোধের চেতনাকে জাগ্রত করেছিল। ভারতীয়দের কাছে এটি স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং দেশের গর্বের মন্ত্র। এই ঐতিহ্যকে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির হিসেবনিকেশের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না।”