মধ্যপ্রদেশের একটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে নভেম্বরে।
এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা ভোটের জন্য আট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল পদ্মশিবির। কিন্তু সেখানে হরদীপের নাম ছিল না। তার পরেই জল্পনা ছড়ায় যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হলে হরদীপ আর মন্ত্রী থাকবেন না। সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার একমাত্র শিখ সদস্যকে তৃতীয় বারের জন্য রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি।
মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান। সম্প্রতি তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যসভার সদস্যপদও ছেড়ে দেন। ওই আসনে তাই উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। পরিষদীয় শক্তির বিচারে ওই আসনে ৭৪ বছর বয়সি হরদীপের জয় প্রায় নিশ্চিত। এই আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৫ নভেম্বর। ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ। বিরোধীদের তরফে কাউকে প্রার্থী করা হলে নির্বাচন হবে। না-হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় যাবেন হরদীপ।
চলতি বছরের গোড়ায় আমেরিকার বিচার বিভাগ এপস্টিন মামলার একগুচ্ছ নথি প্রকাশ করেছিল। তাতে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০১৫-এর মধ্যে হরদীপের সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ই-মেল চালাচালি হয়েছিল। ২০১৩ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত হরদীপ সে সময় ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট’-এ কাজ করতেন। নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে ২০০৮-এ এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও এ নিয়ে তাঁর মনে সংশয় ছিল বলে স্বীকার করেছিলেন প্রাক্তন আইএফএস পুরী। সম্প্রতি আবার এপস্টিন এবং হরদীপের বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এই বিতর্কের আবহেই হরদীপকে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম বার উত্তরপ্রদেশ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন প্রাক্তন কূটনীতিক হরদীপ। ২০২০ সালের নভেম্বরে উত্তরপ্রদেশ থেকেই রাজ্যসভা ভোটে জিতেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম বার মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়েছিল হরদীপকে। হয়েছিলেন আবাসন ও নগরোন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। ২০১৯ সালের মে মাসে দ্বিতীয় মোদী সরকারে তাঁকে আগের মন্ত্রকের পাশাপাশি অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২১ সালের জুলাই মাসে হরদীপ প্রথম বার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং তাঁকে আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর গঠিত তৃতীয় মোদী সরকারেও তিনি ফের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত পূর্ণমন্ত্রী হন।