আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে ৮১৬টিতে নিয়ে যেতে সংসদের বাদল অধিবেশনে ফের সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হতে পারে। মোদী সরকার চাইছে, এই বিল পাশে শরদ পওয়ারের এনসিপি বা ডিএমকে-র মতো দল সাহায্য করতে রাজি হলে তারা যেন লোকসভায় হাজির থেকে ভোট দিয়েই সমর্থন করে। পওয়ারের এনসিপি বা ডিএমকে লোকসভা থেকে ওয়াক-আউট করে পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করুক, তা মোদী সরকারের শীর্ষকর্তারা চাইছেন না। কারণ ওই ভাবে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস তথা মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চাইছে না মোদী সরকার।
শরদ পওয়ারের এনসিপি-র নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে বুধবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মোদী সরকার যদি আসন পুনর্বিন্যাসের বিলে লিখিত ভাবে জানায় যে, প্রতি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়বে, তা হলে তাঁরা সমর্থনের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে পারেন। বৃহস্পতিবার ডিএমকে-র সংসদীয় দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন স্ট্যালিন। সূত্রের খবর, ডিএমকে এখনও আসন পুনর্বিন্যাস বিল সমর্থন করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। ডিএমকে নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আগে মোদী সরকার বিল আনুক, তার পরে সিদ্ধান্ত হবে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, শরদ পওয়ারের সঙ্গে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে-রও সমর্থন পেতে মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিলে লিখে দিতে রাজি যে, লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে। গত এপ্রিলে সংসদেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, বিরোধীরা সমর্থনে রাজি হলে তিনি বিলে এই সংযোজন করতে রাজি। সূত্রের খবর, শরদ পওয়ারের সঙ্গে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কথা হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে শাহের সঙ্গে স্ট্যালিনেরও কথা হয়েছে।
কংগ্রেসের শঙ্কা, শরদ পওয়ারের দল আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন করতে রাজি হলে তাতে প্রভাবিত হয়ে ডিএমকে-র সঙ্গে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মতো ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক দলও একই পথ নিতে পারে। সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দশ জনপথে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের কৌশল নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল এলে ফের তার বিরোধিতা করা হবে। রাহুল গান্ধী অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলবেন। সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের নেতাদের একটি বৈঠকও হতে পারে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “অমিত শাহ অন্য দল ভাঙিয়ে লোকসভা, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে চাইছেন। কিন্তু তাতে লাভ হবে না।” বৈঠকের পরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে দাবি তুলেছেন, যদি সরকার ফের লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য ১৩১-তম সংবিধান সংশোধনী বিলে কিছু পরিবর্তন করে সংসদে নিয়ে আসে, তা সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে জানানো হোক।
মোদী সরকার এখনও হাতের তাস দেখাতে রাজি নয়। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে এনডিএ-র মন্ত্রীদের বৈঠকে সরকারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। এপ্রিলে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের বিল পাশ করানো যায়নি। এখন লোকসভার ৫৪০ জন সাংসদ আছেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩৬০ জনের ভোট দরকার। তৃণমূল, উদ্ধবের শিবসেনায় ভাঙন ধরানোর পরে এনডিএ ৩১৯-এ পৌঁছে গিয়েছে। শরদ পওয়ারের এনসিপি ও ডিএমকে সমর্থন করলে এনডিএ ৩৪৯-এ পৌঁছে যাবে। আর সামান্য ভোটের প্রয়োজন হবে। একই ভাবে রাজ্যসভাতেও আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের ভাঙনের ফলে এনডিএ ১৫৫-য় পৌঁছে যাচ্ছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৬৩টি ভোট দরকার। পওয়ার, স্ট্যালিনের সমর্থন পেলে এনডিএ আরও কাছাকাছি চলে যাবে।