ত্রিদেশীয় সফর শেষে আগামিকাল দেশে ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ফলে নতুন করে সাংগঠনিক রদবদলের চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপিতে। এ দিকে, আজ থেকে কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়েছে আরএসএসের প্রান্ত প্রচারকদের বৈঠক। যা শেষ হবে রবিবার। বৈঠকে একাধিক রাজ্যে পদাধিকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে আরএসএস। সূত্রের মতে, আরএসএস এর মধ্যে রদবদল সেরে ফেললে নিজেদের সাংগঠনিক পরিবর্তনে হাত দেবে বিজেপি।
গত জানুয়ারি মাসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেও নিতিন নবীন এখনও নিজের ‘টিম’ ঘোষণা করতে পারেননি। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, নিতিনের ‘টিম’ ঘোষণার সঙ্গে মন্ত্রিসভার রদবদলের যেমন সম্পর্ক রয়েছে তেমনই নতুন ওই ‘টিম’ গড়া হচ্ছে আগামী লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে। মাথায় রাখতে হচ্ছে আরএসএসের সাংগঠনিক পরিবর্তনকেও। দলের এক নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দল ঘোষণার সঙ্গে একাধিক শর্ত জড়িয়ে রয়েছে। সবক’টি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে না।’’ তবে আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে ওই রদবদল সেরে ফেলার পক্ষপাতী দল।
আজ আরএসএসের জাতীয় প্রান্ত প্রচারক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সহকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে-সহ আরএসএসের শীর্ষ পদাধিকারীরা। সংগঠন তথা শাখার বিস্তার দেশে গত এক বছরে কেমন হয়েছে, সেখানে তা খতিয়ে দেখা হবে। বেশ কিছু পদাধিকারী নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের মতে, বর্তমানে প্রায় ১৪-১৫টি রাজ্যে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন)-এর পদ খালি রয়েছে। ওই পদে থাকা নেতারা আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্বে থাকেন। তাই লোকসভা নির্বাচন যখন এগিয়ে আসছে তখন ওই পদগুলি খালি ফেলে রাখার পক্ষপাতী নয় উভয় পক্ষই। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘ওই রদবদলের ফলে আরএসএসের কিছু নেতা যেমন সংগঠনের দায়িত্ব নেবেন, তেমনই বেশ কিছু আরএসএস নেতাকে বিজেপিতে নিয়ে আসা হবে।’’
বিজেপির ওই নেতার দাবি, আরএসএস বদলের চিত্রটি স্পষ্ট করলেই, বিজেপিও কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলতে দেরি করবে না।