নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দ্বাদশ ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের শেষ দিনে প্রকাশিত হল যৌথ ঘোষণাপত্র। তাতে নাম করেই পহেলগাম কাণ্ডের নিন্দা করা হয়েছে।
এই ফোরামের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত, ব্রাজ়িল, চিন, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংসদীয় নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা। ঘোষণাপত্রে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। প্রতিনিধিরা জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ‘আপস’ করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে ‘দ্বিচারিতা’ও বরদাস্ত নয়। নির্দিষ্ট নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ঘোষণাপত্রে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা করা হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জের কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত সমস্ত সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের উপরেও জোর দিয়েছেন প্রতিনিধিরা। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ সামগ্রিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও ন্যায়সঙ্গত, সাম্যভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক, কার্যকর ও দক্ষ করে তুলতে হবে।
বিশেষ ভাবে ব্রিকস-এর নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিনিধিরা বলেন, বিশ্ব পরিচালনার ব্যবস্থায় যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব অংশের, বিশেষত গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির, মতামত ও স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পাশাপাশি, কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে আজকের ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী, এক তরফা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এক তরফা তৃতীয় দেশের উপরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অধিকারের উপরে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফোরাম।