দেশের মাটিতে‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ দেওয়াল লিখন দেখলে বা কেউ প্যালেস্টাইনের পক্ষে স্লোগান তুললে বিজেপি নেতারা তাঁদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলে নিশানা করেন। মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলেন।
শনি ও রবিবার দিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণা থেকে সেই সার্বভৌম প্যালেস্টাইন প্রতিষ্ঠারই ডাক দেওয়া হয়। ব্রিকস-এর দেশগুলি দিল্লি ঘোষণায় প্যালেস্টাইনের মানুষকে উচ্ছেদ করা ও প্যালেস্টাইনের জনসংখ্যার চরিত্র ও ভৌগোলিক সীমানার বদলের বিরোধিতা করেছে। ডাক দেওয়া হয়েছে গাজ়ায় গণহত্যায় ইতি টানার। সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছনো, রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের সদস্যপদের পক্ষেও সরব হয়েছে। ভারত-সহ ব্রিকসের সমস্ত দেশ দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানকেই সমর্থন করেছে।
ব্রিকসের এই ঘোষণার পরে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা ওয়েনাড় থেকে উপনির্বাচনে জিতে লোকসভায় আসার পরে ‘প্যালেস্টাইন’ লেখা হাত ব্যাগ নিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন। তার আগে তিনি গাজ়ায় ইজ়রায়েলের হামলাকে গোটা জাতির অস্তিত্ব মুছে দিতে গণহত্যা বলে নিন্দা করেছিলেন। সে সময় বিজেপির আইটি সেল অভিযোগ তুলেছিল। প্রিয়ঙ্কা মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক বার্তা দিতে চাইছেন। কংগ্রেসের প্রশ্ন, এখন বিজেপি নেতৃত্ব কী বলবেন?
বিজেপি এ নিয়ে মুখ না খুললেও কংগ্রেসের বিদেশ দফতরের চেয়ারম্যান সলমন খুরশিদ বলেন, ‘‘ব্রিকসের ঘোষণায় প্যালেস্টাইন ও গাজ়ার উল্লেখ, এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ।’’ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাও প্যালেস্টাইন নিয়ে ব্রিকসের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও বেবির মতে, ব্রিকসের ঘোষণার সঙ্গে মোদী সরকারের বিদেশনীতির অনেক ফারাক। মোদী সরকার প্যালেস্টাইন, ইরান, কিউবা, ভেনেজ়ুয়েলার পাশে থাকা নিয়ে শুধু কথার কথা বলছে। কংগ্রেসের জনসংযোগ দফতরের চেয়ারম্যান পবন খেরার অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী সরকার ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন নিয়ে অবস্থান লঘু করেছে। রিও থেকে ২০২৫-এ ব্রিকসের ঘোষণায় প্যালেস্টাইনের সমর্থনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ইজ়রায়েল সফরে চলে যান। এখন মোদী সরকার পশ্চিম এশিয়ার কথা বললেও ইজ়রায়েলের নিন্দা করে না।