পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে ‘অবৈধ’ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর তৎপরতা বহু গুণ বাড়িয়েছে ভারত। বিষয়টি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থানও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে বারবার। বলা হয়েছে, ২৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বাংলাদেশের কাছে বিচারাধীন। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাড়পত্রের অপেক্ষায়। নয়াদিল্লি আশা করে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ঢাকা দ্রুত সম্পন্ন করবে। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামিকাল শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকে ‘অবৈধ পুশ ইন’-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আজ জানালেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তাঁর কথায়, “আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। আমাদের সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এ সব সমস্যা প্রাথমিক ভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।’’ তিনি আরও জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে এবং আসন্ন বৈঠকেও এ সব বিষয়ে বিস্তারিত কথা হবে।
বাংলাদেশ সূত্রের খবর, ভারত থেকে ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও তাঁদের সহযোগিতা করছেন বলে খবর। বিজিবি সূত্রের বক্তব্য, ভারতের পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন বিন্দুতে ৪১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে বিজিবি জওয়ানদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকেও বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন বলে খবর।
বাংলাদেশের সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। ভারত কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে, বেশির ভাগ অংশই অরক্ষিত। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ‘অবৈধ’ বসবাসকারীদেরও চিহ্নিত করা হবে।