অসমের সুখচরে দুই ভারতীয় গ্রামবাসীকে গুলি করে বাংলাদেশের চরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করল বিএসএফ।
গত রবিবার অসমের দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার সুখচরের বড়বালু গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন এবং দেওয়ানেরআলগা গ্রামের আব্দুল আলিম মণ্ডল নামে দুই গ্রামবাসী বাংলাদেশের রংপুরে জখম অবস্থায় উদ্ধার হন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের এখনও চিকিৎসা চলছে। ওই দুই গ্রামবাসী বাংলাদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা চরতে যাওয়া গরু ফেরাতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন। বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে ট্রলারে চাপিয়ে রংপুরের কাছে একটি ছোট চরে নামিয়ে দেয়। অভিযোগ, তাঁরা জোর করে ফের বিএসএফের ট্রলারে চাপতে গেলে তাঁদের উপরে ছররা গুলি ও ককটেল বোমা ছোড়েন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা।
বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার সোমবার গুলিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ভারতের মধ্যে কোনও ঘটনাই ঘটেনি।” কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “সব দিক পর্যালোচনা করে, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুই গ্রামবাসীর এ ভাবে বাংলাদেশে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয় থানা পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছিল, ইসমাইল ও আব্দুলকে সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিং করে হস্তান্তর করা হতে পারে। কিন্তু রংপুরে তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা রুজু হওয়ায় সেখানে তাঁদের সাজার মুখে পড়তে হবে। ফলে আপাতত ওই দুই যুবকের ভারতে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় জেলাশাসকের কাছে স্মারকপত্র জমা দিয়ে, প্রশাসনিক স্তরে এই সমস্যার সুরাহা করার দাবি জানিয়েছে দুই যুবকের পরিবার।
রংপুরের পুলিশ সেখানকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পরে ইসমাইল ও আব্দুল দাবি করেন, স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ঢোকেননি তাঁরা, বিএসএফ গুলি করে ফেলে রেখে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জনের হাতে ও অন্য জনের পাঁজরে গুলি লেগেছে। সেরে উঠতে আরও কিছু দিন লাগবে। গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার জ়িকরুল হাসান ফাহাদ বলেন, “যে হেতু মামলা রুজু হয়েছে, ওই দু’জনকে আদালতে তোলা হবে। আইন মেনেই ব্যবস্থা হবে। নিয়মানুযায়ী, সাজার মেয়াদ পার হওয়ার পরে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার ওই দু’জনের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার বিষয়টি যাচাই করবেন। তার পরেই ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।”
ইসমাইল হুসেনের ভাই আসমত আলি জানান, তাঁরা ভাইয়ের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ওয়টস্যাপ করে বাংলাদেশ পুলিশকে পাঠিয়েছেন। সব নথিপত্র ও স্মারকলিপি নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার তাঁদের জেলাশাসকের কাছে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন, “ইসমাইলকে বাংলাদেশে অনির্দিষ্ট কাল বন্দি থাকতে হলে তাঁর পরিবার ও ছোট তিন সন্তান অথৈ জলে পড়বে।” আব্দুলের ভাই হালিম মণ্ডল জানান, তাঁরা বুধবারই জেলাশাসকের দফতরে সব নথি জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা শেষ নির্বাচনেও এখানে ভোট দিয়েছি। আমরা এ দেশেরই নাগরিক।”