Advertisement
E-Paper

৫০ বছরের পুরনো বাড়ি, কয়েক মাস আগেও জরাজীর্ণ ছিল! কী কী অনিয়ম দিল্লির মেসবাড়িতে? মৃত বেড়ে ৬, চলছে উদ্ধারকাজ

কয়েক মাস আগেও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। মালিক হরিরাম বনসল বছর ২০ আগে গুরুগ্রামে চলে যান। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বাড়িটি সংস্কার করে ‘পেইং গেস্ট’ ছাত্রছাত্রীদের ভাড়া দেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৫
দিল্লির চাণক্যপুরীতে ভেঙে পড়েছে পাঁচতলা মেসবাড়ি।

দিল্লির চাণক্যপুরীতে ভেঙে পড়েছে পাঁচতলা মেসবাড়ি। ছবি: পিটিআই।

দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগ এলাকায় ছাত্রদের মেসবাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছ’জনের। ১১ জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো যায়নি। তার নীচে আরও কেউ কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। পাঁচতলা ওই বাড়িটি ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, বাড়ির নির্মাণেই ছিল একাধিক গলদ। বাড়িটি অন্তত ৫০ বছরের পুরনো বলে দাবি করছেন স্থানীয়েরা।

জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। মালিক হরিরাম বনসল বছর ২০ আগে গুরুগ্রামে চলে যান। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বাড়িটি সংস্কার করে ‘পেইং গেস্ট’ ছাত্রছাত্রীদের ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সংস্কারের কাজও এখনও শেষ হয়নি। অভিযোগ, বেসমেন্টে কাজ চলছিল। তার আগেই বাড়ি ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয়। এই মেসবাড়ির কাছেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সেখানে ছাত্রছাত্রীরা পড়তে যান। ভেঙে পড়া বাড়িটিতেও ভিন্‌রাজ্যের অনেক পড়ুয়া থাকছিলেন। অধিকাংশই কেরলম, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে যুবরাজ নামে এক ছাত্রকে শনাক্ত করা গিয়েছে। এ ছাড়া, এক জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহতেরা দিল্লি এমসের ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন। মালিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। রবিবারের ঘটনার জন্য মালিকের লোভকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

দিল্লি পুরসভা মেনে নিয়েছে, বাড়িটি নিয়ম ভেঙে তৈরি করা হয়েছিল। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাড়ির দোতলা পর্যন্ত অনুমোদন ছিল। বাকি চারটি তলা বানানো হয় বেআইনি ভাবে, পুরসভার অনুমোদন ছাড়াই। তা ছাড়া, বসতবাড়িকে রাতারাতি বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল। অথচ, সামনেই পুরসভার দফতর। কেন এত বছরে পুর কর্তৃপক্ষ বাড়ির অবস্থা যাচাই করতে এলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, দু’দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই এলাকার রাস্তাও ছিল বেশ নিচু। ফলে রাস্তায় জল জমে গিয়েছিল। এমনকি, ভবনটির বেসমেন্টেও জল জমেছিল। তবু সেখানেই সংস্কারের কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। মালিক নিয়মিত দেখেও যাচ্ছিলেন বলে দাবি প্রতিবেশীদের। জলের কারণে বেসমেন্টের পিলার দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এই অঘটন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। মেসবাড়ির পাশে মেয়েদের একটি হস্টেল রয়েছে। সেখান থেকেও আবাসিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Delhi Building Collapse Chanakyapuri Hostel Paying Guest

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy