দিল্লির রাস্তায় এক গাড়িচালককে ছুরি মারার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক দোকানদার। গত রবিবার রাতে গুরুতর জখম অবস্থায় গাড়িচালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পিটিআই সূত্রের খবর, মঙ্গলবার হাসপাতালে সেই গাড়িচালকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম সন্দীপ। অভিযুক্ত ‘ছোলে-ভটুরে’ বিক্রেতা চিন্টু গুপ্তকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার চিন্টুর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
দিল্লির নিহাল বিহার এলাকার জ্বালাপুরী নালার ঘটনা। খাওয়ার সময় অভিযুক্তের কাছে অতিরিক্ত ‘ছোলে’ চেয়েছিলেন সন্দীপ। সেই থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। বাগবিতণ্ডা চরমে পৌঁছোলে ছুরি বের করে সন্দীপকে আঘাত করেন চিন্টু। জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয় গাঁধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় পঞ্জাবি বাগের মহারাজা অগ্রসেন হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দীপের পেটের ডানদিকে তিনটি এবং বাঁহাতে চারটি ক্ষত ছিল।
এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, সন্দীপ বয়ান দেওয়ার মত অবস্থায় ছিলেন না। তাই তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের উপর ভিত্তি করেই তদন্ত শুরু করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল, সন্দীপ ও চিন্টুর মধ্যে বাদবিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে পশ্চিম বিহার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯(১) ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। চিন্টুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ ছিল খুনের চেষ্টা। তদন্ত চলাকালীন চিন্টুকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়। সন্দীপের মৃত্যুর পর যোগ হয় খুনের জন্য বিএনএসের নির্দিষ্ট ধারা ১০৩(১)।
সন্দীপের বাবা বিজেন্দ্র সিংহ জানান, খাবার নিয়ে ছোটখাটো ঝামেলা যে এত বড় রূপ নেবে তা তিনি ভাবতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘ছেলে রবিবার বাজারে গিয়েছিল। দোকানদারের কাছে অতিরিক্ত ছোলে চাইতেই দু’জনের ঝগড়া শুরু হয়। দোকানি আমার ছেলেকে মারধর করেন। তার পর ছুরি দিয়ে কোপ বসান। একাধিকবার। আমি ঘটনার কথা জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোই। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাহায্যে ওকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’’
তাঁর দাবি, একজন নয়, হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিন থেকে চারজন। দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সন্দীপের বাড়ি নিহাল বিহারেই। পেশায় ক্যাবচালক ছিলেন। সন্দীপের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা বিজেন্দ্র এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্র।