রেল স্টেশনে শীতল পানীয় জলের মান নিয়ে এ বার উদ্বেগ প্রকাশ করল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)। সম্প্রতি বেশ কিছু স্টেশনে ‘ওয়াটার কুলারের’ জলে পাওয়া গিয়েছে ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া। তালিকায় রয়েছে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসও। ক্যাগের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রেল স্টেশনে পানীয় জল খাওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৪৯টি স্টেশনের পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়। তার মধ্যে আটটিতে ‘ওয়াটার কুলারের’ জলে ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে মুম্বইয়ের কিছু শহরতলির স্টেশনও রয়েছে। পাশাপাশি কেরল, তামিলনাড়ু এবং ঝাড়খণ্ডের রেল স্টেশনও আছে। ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ রেলের কোয়ম্বত্তূর এবং পালাক্কড় জংশন, দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ, মধ্য রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রো়ড, কল্যাণ ও লোণাবলা এবং পূর্ব রেলের মধুপুর স্টেশনে মিলেছে ই.কোলাইয়ের নমুনা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্টেশনগুলিতে জল সরবরাহ ব্যবস্থা যে সূচি অনুযায়ী পরিদর্শন করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি। পানীয় জলে রেসিডুয়াল ক্লোরিন (জলে ক্লোরিন মিশিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পরেও যে পরিমাণ ক্লোরিন অবশিষ্ট থাকে), ব্যাকটেরিয়া এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও খামতি ছিল। পানীয় জলে ক্লোরিনের মাত্রা কম-বেশি থাকা, ই.কোলাই-সহ কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া থাকা এবং বিভিন্ন মাপকাঠিতে ঘাটতি এই স্টেশনগুলিতে নিম্নমানের পানীয় জলের দিকে ইঙ্গিত করে। পানীয় জলের গুণমান যাচাইয়ের যে অভিন্ন প্রোটোকল রয়েছে, সেই অনুযায়ী বেশ কিছু বিষয় পরীক্ষা করা হয়নি বলেও জানা গিয়েছে ক্যাগ রিপোর্টে।
আরও পড়ুন:
ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ সালের অডিটে ৪৯টি স্টেশনে এবং ২০২৩-২৪ সালের অডিটে ৫৬টি স্টেশনে টোটাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া (ই.কোলাই-সহ) পাওয়া গিয়েছিল। ক্যাগ আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রেল জানিয়েছিল অডিটে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। তবে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রেলকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে বলে মনে করছে ক্যাগ। তারা জানিয়েছে, স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে রেল প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও বেশ কিছু স্টেশনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।