পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের নির্দেশে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের ওএসডি রাজবীর সিংহ ঘুমান এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে তৎপরতা শুরু করেছে সিবিআই। গত সোমবার আদালতের আদেশের পরে, মঙ্গলবার চণ্ডীগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডির সরকারি বাসভবন-সহ মোট আটটি জায়গায় টানা তল্লাশি চলেছে। আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে রাজবীর ও তাঁর সহযোগীদের। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে চাপানউতোর।
মঙ্গলবার সিবিআই চণ্ডীগড়, সঙ্গরুর, মোহালি, গুরুদাসপুর, লুধিয়ানা, পাটিয়ালা ও জালন্ধরের নানা জায়গায় অভিযান চালায়। রাজবীর এবং তাঁর সহযোগী নিতিন গোহাল, জিতিন গোহাল, রোমি রাজা মহাজন, বীর দেবেন্দর ও আর এস নাগরার বাসভবন ও ফ্ল্যাট থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ওই দিন সন্ধ্যায় সঙ্গরুর জেলার ঘরাঞ্চোঁ গ্রামে রাজবীরের পৈতৃক বাড়িতে সিবিআইয়ের পাঁচ সদস্যের দল তল্লাশিতে যায়। গভীর রাতে ফেরার সময়ে ওয়ারিস পঞ্জাব দে ও অকালি দল (পুনর সুরজিৎ)-এর কিছু সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সিবিআইয়ের গাড়ি ঘিরে ঢোল বাজিয়ে নেচে, পুষ্পবৃষ্টি করে অভিবাদন জানান। এর পরেই সঙ্গরুর পুলিশ এক পুলিশ আধিকারিককে নিলম্বিত এবং দুই বাসিন্দাকে আটক করেছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে, রাজ্য জুড়ে সরকারের প্রতি জনগণের ক্ষোভ কতটা তীব্র।
গত সোমবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অশ্বিনীকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি রোহিত কপূরের ডিভিশন বেঞ্চ রাজবীর ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, দু’মাসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। এর পরেই সিবিআই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। মান ও আপের শীর্ষ নেতৃত্ব সিবিআই অভিযানকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে তোপ দেগেছেন। তাঁদের দাবি, ২০২৭-এ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আপের বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে ও সরকারকে কালিমালিপ্ত করতেই কেন্দ্র সিবিআইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তল্লাশি চলা জায়গাগুলির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মান ২ নম্বর সেক্টরের ৫০ নম্বর বাড়িটিকে তাঁর ক্যাম্প অফিস বলে দাবি করলেও সিবিআই দাবি করেছে, তারা মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বা সরকারি কার্যালয়ে অভিযান চালায়নি, ওএসডি রাজবীরের ব্যবহৃত সরকারি বাসভবনে তল্লাশি হয়েছে। বিজেপি, অকালি দল-সহ বিরোধীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব উড়িয়ে বলছে, হাই কোর্টের সরাসরি আদেশে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ওএসডির বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপ স্থগিত করার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ কোর্টে আবেদন করেছে পঞ্জাব সরকার।