বদ্রীনাথ মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনার তদন্তে নজরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সেই ফুটেজে অভিযুক্তকে প্রণামীবাক্স থেকে টাকা তুলতে দেখা গিয়েছে। তাঁর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক! প্রণামী চুরির ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্তকারী দলের এক সদস্য সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ওই ফুটেজকে হাতিয়ার করে তদন্তের গতি বাড়ানো হচ্ছে।
বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রয়েছেন প্রমোদ নাটিওয়াল নামে এক ব্যক্তি। তিনি বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) কর্মী ছিলেন। পরে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি গত ২ জুলাইয়ের। ওই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দান গণনার ঘর থেকে নগদ, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম পাথর, দানের খাম ‘সন্দেহজনক ভাবে লুকোচ্ছেন’ প্রমোদ!
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গণনাকক্ষ এবং তাঁর অফিসের মধ্যে বার বার যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রমোদ ‘চুরি’ করা নগদ এবং দান সামগ্রী লুকিয়ে রাখছিলেন নিজের অফিসে। শনিবার উত্তরাখণ্ড পুলিশ বলেছে, ‘‘অভিযুক্ত প্রমোদ নাটিওয়ালকে সন্দেহজনক ভাবে ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম পাথর এবং আনুমানিক ১০-১২ হাজার টাকার নৈবেদ্যের খাম লুকোতে বা চুরি করতে দেখা গিয়েছে।’’
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই পাঁচ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করেছেন। মন্দির কমিটির থেকে গত তিন বছরের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। রবিবার মন্দির কমিটি সেই তথ্য জমা দেবে সিটের কাছে। শুধু ২ জুলাইয়ের নয়, অন্য দিনের সিসি ক্যামেরার কিছু ফুটেজ খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। মূলত ২৫ এবং ২৯ জুনের ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও, প্রমোদের কল রেকর্ডের উপরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নজর রাখছেন তদন্তকারীরা। ‘চুরির’ আগে বা পরে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তা দেখতে চান তাঁরা।
আরও পড়ুন:
ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন প্রথম অভিযোগ তোলে, অযোধ্যার রামমন্দিরের মতো বদ্রীনাথেও ভক্তদের দেওয়া প্রণামী তছরুপ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব। যদিও হেমন্ত পরে দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই অভিযুক্ত একজন সরকারি কর্মী। প্রণামী চুরির অভিযোগ নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই চার সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করেছে বিকেটিসি।
প্রমোদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই এফআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টে মামলা করেছেন তিনি। সেই মামলার শুনানিতে বিকেটিসি-কে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আলোক মেহরা।