ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে, ঢাকার রাজনীতির অন্দরের চাঞ্চল্য ততই বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সত্যিই যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন, তা হলে তার প্রতিক্রিয়া কী হবে সেই পূর্বাভাস দিতে পারছেন না ওপার বাংলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও। সূত্রের খবর, হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছে তারেক রহমান প্রশাসনকে।
মাসখানেক আগে ঢাকা সফর করেছে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের দল। ওই দলটি বৈঠক করে বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, ওই গোয়েন্দা প্রতিনিধিদলটি হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ভাবে ঢাকাকে জানিয়ে এসেছে। বলা হয়েছে হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে কোনও অসম্মানজক আচরণ না করাই বাঞ্ছনীয়। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ নেত্রীকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তা হলে যেন তাঁর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, তাঁর চিকিৎসায় যেন খামতি রাখা না হয়।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলি অনেক দিন ধরে দাবি তুলেছে, নয়াদিল্লি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করুক। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, তারেক প্রশাসনকে গোয়েন্দাদের ওই দলটি রীতিমতো জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনও প্রত্যর্পণের অনুরোধ তখনই মঞ্জুর করা যেতে পারে, যখন আশ্রয়দাতা দেশ নিশ্চিত হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব আওয়ামী লীগের প্রধান। হাসিনার দলের এক নেত্রীর কথায়, ‘‘উনি পারলে কালই দেশে ফেরেন! এ ব্যাপারে তাঁর নাও-অর-নেভার মনোভাব। উনি আল্লা আর বাংলাদেশের জনগণের ভরসায় দেশে ফিরতে মনস্থির করেছেন।’’ কিন্তু রাজনীতিতে সাহস ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ কখনওই সুচিন্তিত পরিকল্পনার বিকল্প হতে পারে না। ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, কোন পথে কী ভাবে হাসিনা দেশে ফিরবেন, সেই পরিকল্পনা সম্ভবত এখনও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব করে উঠতে পারেননি। ভারতের এক প্রবীণ গোয়েন্দা অফিসারের প্রশ্ন, ‘‘শেখ হাসিনার পরিকল্পনা কী? আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর লড়াই শুরু করা নাকি শুধুই জেল ভরো আন্দোলন।’’
গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশে জনাছয়েক লস্কর-এ-তইবা জঙ্গির উপস্থিতি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চার জনকে চিহ্নিতও করা গিয়েছে। তারা এক সময় কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল। আচমকা তারা বাংলাদেশে কী করছে তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টো হত্যার ঘটনাও।