বাদল অধিবেশনের মেয়াদ আর দু’দিন। সব ঠিক থাকলে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রক সংশোধনী বিলটি (এফসিআরএ) আগামিকাল লোকসভায় আলোচনার জন্য আনতে চলেছে সরকার। যেহেতু অধিকাংশ বিরোধী দলই ওই বিলের বিপক্ষে, তাই বিলটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) কাছে পাঠানোর পক্ষপাতী শাসক শিবির।
গত মার্চ মাসে বাজেট অধিবেশনে বিলটি লোকসভায় পেশ করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। মূলত বিদেশ থেকে আসা অর্থের সাহায্যে যে ব্যক্তি বা সংস্থা দেশে ধর্মান্তরকরণে সক্রিয়, তাঁদের আটকাতে সংশোধনী বিলটি আনা হয়। কিন্তু কেরল ভোটের ঠিক আগে বিরোধীরা ওই বিল খ্রিস্টান-বিরোধী বলে প্রচারে নামায় আর এগোয়নি মোদী সরকার।
বাদল অধিবেশনে ফের বিলটি পাশ করাতে তৎপরতা দেখা যায়। মতৈক্যের লক্ষ্যে একাধিক খ্রিস্টান সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিল নিয়ে আপত্তি জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা। সংশোধনী ওই বিলে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা যদি কোনও বছরে বিদেশি অনুদান শংসাপত্র নবীকরণে ব্যর্থ হয় বা শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়, ওই সংস্থার যাবতীয় সম্পত্তি সরকার দখল করে নেবে। ওই শর্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানায় খ্রিস্টান সংগঠনগুলি। ঘরোয়া ভাবে সরকার জানিয়ে দেয়, তারা ওই শর্ত প্রত্যাহার করে নেবে।
বিলটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে কংগ্রেস, ডিএমকে, এসপি, তৃণমূলের মতো দলগুলি অনড় বলে জানিয়েছেন সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিজেডির মতো দলগুলি বিলটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর পক্ষে। সরকারের শীর্ষ সূত্রের মতে, যেহেতু ওই বিলটি পেশ হয়ে গিয়েছে, তাই কাল লোকসভায় ওই বিলটি বিশদে আলোচনার জন্য জেপিসিতে পাঠানোর প্রস্তাবদেবে সরকার।