E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এআই-অস্ত্রে নিখুঁত পূর্বাভাস চায় কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের খবর, অন্তত চার সপ্তাহ আগে হড়পা বান ও বন্যার আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। জল শক্তি মন্ত্রকের অধীন কেন্দ্রীয় জল কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫০

—প্রতীকী চিত্র।

নেপালে যে ভাবে হিমবাহ হ্রদ থেকে নেমে আসা হড়পা বান বিপর্যয় ঘটিয়েছে, তা হিমাচল-উত্তরাখণ্ড থেকে সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ অথবা উত্তর-পূর্বের হিমালয় পার্বত্য রাজ্য বা হিমালয়ের পাদদেশে থাকা রাজ্যেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। মঙ্গলবারই অতিভারী বৃষ্টির ফলে হড়পা বান ও ধসে উত্তরাখণ্ডে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে নেপালের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এ বার কেন্দ্রীয় সরকার হড়পা বান ও হঠাৎ বন্যার যথেষ্ট আগে থেকে ও নিখুঁত ভাবে পূর্বাভাস পেতে কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে চাইছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের খবর, অন্তত চার সপ্তাহ আগে হড়পা বান ও বন্যার আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। জল শক্তি মন্ত্রকের অধীন কেন্দ্রীয় জল কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। সূত্রের বক্তব্য, সাধারণত আবহাওয়া দফতর দশ দিনের পূর্বাভাস দেয়। এআই ও ‘মেশিন লার্নিং’ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চার সপ্তাহ আগে হড়পা বান বা অতিভারী বৃষ্টির ফলে তৈরি বন্যার পূর্বাভাস করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পারবে।

কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশনই বন্যার পূর্বাভাসের নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কমিশনকে আবহাওয়া দফতরের উপরে নির্ভর করতে হয়। ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীন আবহাওয়া দফতর অত্যাধুনিক এআই ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সঙ্গে ‘হাই রেজ়লিউশন নিউমেরিকাল ওয়েদার প্রেডিকশন’ মডেল কাজে লাগিয়ে হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে আবহাওয়ার কার্যত নিখুঁত পূর্বাভাস দেয়। ডপলার আবহাওয়া রেডার, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র, উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উন্নতি হয়েছে আগের দশকের তুলনায় ৪০ শতাংশ।’’

নেপালের হড়পা বানের পরে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ কর্তারা মনে করছেন, এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। তাই নেপালের মতো হিমবাহ হ্রদ ভেঙে নেমে আসা হড়পা বান বা অতিভারী বৃষ্টির ফলে তৈরি আচমকা বন্যার আগাম আঁচ পেতে ‘যথেষ্ট আগাম’ পূর্বাভাসের এআই-মডেল তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। আপাতত এই পূর্বাভাস সরকারের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজে লাগানো হবে। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, গত বছর গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রে একগুচ্ছ জায়গায় এই ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ বছরের বর্ষাকাল জুড়েও একই ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

নেপালের ঘটনার পরে ব্রহ্মপুত্রে হড়পা বান নিয়ে মোদী সরকারের আশঙ্কা বেড়েছে। কারণ চিন ব্রহ্মপুত্রের উপরের অংশে ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ তৈরি করছে। ব্রহ্মপুত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত বা বিভিন্ন দেশের মধ্য বয়ে চলা নদীর ক্ষেত্রে চিনের সাহায্য ছাড়া আগাম পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি সূত্রের খবর, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বয়ে চলা জলঢাকা নদীতে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Arms Defence

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy